নিখোঁজের ৯ দিন পর কাস্টমস সদস্যের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার নয় দিন পর কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখার এক সদস্যের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটি তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও একটি বস্তার মধ্যে ভরে একটি পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়িয়া থানার পরিদর্শক মশিউর রহমান।
নিহত রাকিব রায়হান তালুকদার (৪০) উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, রাকিব প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার বাড়িতে এসে শনিবার কর্মস্থলে ফিরে যেতেন। গত ২৪ জুলাই বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ২৭ জুলাই ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই রাকিবের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জাসহ আরও তিন থেকে চারজনের অবস্থান রহস্যজনকভাবে অজানা হয়ে যায়। তদন্তের একপর্যায়ে উপজেলার অনন্তপুর বাজুয়া নদী এলাকা থেকে রাকিবের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চাবির রিং উদ্ধার করা হয়, যা তদন্তে নতুন সূত্র দেয়।
পরিদর্শক মশিউর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর রাকিবের মরদেহ খণ্ডিত করে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও একটি বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। রোববার দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুকুরে একটি বস্তা ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে কেয়ারটেকার রাজু মির্জাসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মতামত দিন