মারধর করে পুলিশে দেওয়া আওয়ামী লীগের সেই পঙ্গু নেতার মৃত্যু
বগুড়া জেলা কারাগারে জামিনে মুক্তি না পেয়ে বন্দি থাকা ৬০ বছর বয়সী আওয়ামী লীগ নেতা শাহনূর আলম শান্ত মারা গেছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শাহনূর আলম শান্ত গত ৪ জানুয়ারি নারুলী কৃষি ফার্মের সামনে গোপনে স্ত্রীকে দেখতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের আটক ও মারধরের শিকার হন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সদর থানায় নিয়ে আসে।
ওইদিন তাকে জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনির করা নাশকতা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং কারাগারে পাঠানো হয়।
বগুড়া জেলা কারাগারের জেলা কর্মকর্তা নুরুল মুবীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ১৭ জানুয়ারি শাহনূর আলম শান্তকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। পঙ্গু অবস্থায় থাকা তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে মারা যান। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
শাহনূর আলম শান্তের ছোট ভাই ফারুক মিয়া জানিয়েছেন, তার একমাত্র ভাতিজি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। শান্তের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকার মানুষ শোকাহত। ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ গ্রহণ ও নিজবলাইল গ্রামের বাড়িতে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শাহনূর আলম শান্তের এক পা কাটা এবং পায়ে রড রয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি শহরের নারুলী কৃষি ফার্মের সামনে তিনি স্ত্রীকে দেখতে গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক ও মারপিট করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাজতে পাঠায়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে