মেয়েদের সর্বজনীন উপবৃত্তি ফের চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের নির্দেশ
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের কার্যক্রম, উদ্দেশ্য এবং শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ঝরে পড়া রোধে এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জনও পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে বলা হয়, ওই কর্মসূচি মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো, শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিয়ে নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের জন্য আবারও সর্বজনীন উপবৃত্তি চালু করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করতে বলা হয়েছে।
এ জন্য সম্ভাব্য ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং কর্মসূচিটির সম্ভাব্য সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
স্কুলে মিড-ডে মিল নিয়ে নতুন উদ্যোগ
বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকেও শিক্ষার মানোন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিদ্যালয় পর্যায়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা, খাবারের পুষ্টিমান এবং নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের দেওয়া খাবার যাতে পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন। খাবারের মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস না করার নির্দেশও দেন তিনি।
মিড-ডে মিল পরিচালনায় ব্যয়, ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণ এবং মান নিয়ন্ত্রণ বিবেচনায় নিয়ে দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করতে পৃথক দুটি জেলায় দুটি পদ্ধতির পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত দিন