র্যাংগসএক্সের হাত ধরে ডিএইচএল এক্সপ্রেসে ১৮ ইলেকট্রিক কার্গো ভ্যান
দেশের লজিস্টিকস ও বাণিজ্যিক পরিবহণ খাতে প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে শতভাগ বৈদ্যুতিক যান যুক্ত হয়েছে। র্যাংগস গ্রুপের ফিউচার মোবিলিটি ইউনিট র্যাংগসএক্স আন্তর্জাতিক এক্সপ্রেস লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান ডিএইচএল এক্সপ্রেস বাংলাদেশের কাছে ১৮টি ডংফেং ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) ভ্যান হস্তান্তর করেছে। এর মাধ্যমে দেশের বাণিজ্যিক পরিবহণখাতে এক যুগান্তকারী ও পরিবেশবান্ধব অধ্যায়ের সূচনা হয়।
সম্প্রতি র্যাংগস অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কার্গো ভ্যানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহণব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ সরকারের ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) গ্রহণ ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়াও, বাংলাদেশের কার্বন-মুক্ত ভবিষ্যতের জন্য এ উদ্যোগ নীরব বিপ্লব ঘটাবে।
এ বিষয়ে র্যাংগস গ্রুপের (অটোমোটিভ ডিভিশন) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ শাহরিয়ার আনোয়ার বলেন, “শতভাগ বৈদ্যুতিক ১৮টি কার্গো ভ্যান হস্তান্তর শুধু একটি চুক্তির আনুষ্ঠানিকতাই নয়। এটি বাংলাদেশের ইভি যাত্রায় এক নতুন মাইলফলক। ডিএইচএলের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের আস্থা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।”
এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির (আইশার বাস ও ট্রাক, ডংফেং ইভি এবং পিকআপ ডিভিশন) বিজনেস হেড শাহ মোহাম্মদ রুম্মান বিন রউফ বলেন, “লজিস্টিকস ব্যবসায় অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো যানবাহনের জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ। বৈদ্যুতিক কার্গো ভ্যান ব্যবহারে উভয় ব্যয় কমবে। এর ফলে লজিস্টিকস কার্যক্রম আরও সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য হবে।”
ডিএইচএল এক্সপ্রেস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিয়ারুল হক বলেন, “আমরা শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্যে কাজ করছি, যা অর্জনে নিজেদের ফ্লিটে শতভাগ বৈদ্যুতিক কার্গো সংযোজন করা হলো। বাংলাদেশে এটি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
অনুষ্ঠানে ডিএইচএল ও র্যাংগস গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ দেশের করপোরেট ও লজিস্টিকস খাতে ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) ব্যবহারের প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ সরকারের ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) নীতিমালা ও ভবিষ্যৎ পরিবহন কৌশলের সাথে তাল মিলিয়ে র্যাংগসএক্স বেসরকারি খাতে ইলেকট্রিক পরিবহণের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। ব্র্যান্ডটির প্রাথমিক পোর্টফোলিওতে ইলেকট্রিক মাইক্রোবাস, কার্গো ভ্যান এবং ইলেকট্রিক টু-হুইলারের পাশাপাশি রয়েছে বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগী আরও একাধিক ইলেকট্রিক মডেল, যা দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, লজিস্টিকস অপারেটর ও সাধারণ মানুষের আধুনিক, সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক যাতায়াতের চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
মতামত দিন