Views Bangladesh Logo

দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের নয়াদিল্লিতে ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য ও মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। আগে থেকেই এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও ভারত সরকার তা না মেনে এই আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় এই প্রতিক্রিয়া জানালো ঢাকা।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের এই অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বুধবার বিকেলে নয়াদিল্লিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ (এফসিসি সাউথ এশিয়া)। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা প্রথমে বক্তব্য দেন এবং পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের ওপর থেকে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং কারাবাস বা আরও খারাপ কিছুর শঙ্কা সত্ত্বেও আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তাঁর মধ্যে কোনো অনুশোচনা বা ভুল স্বীকারের মানসিকতা দেখা যায়নি।

নয়াদিল্লির এই আয়োজনে শেখ হাসিনার পাশাপাশি তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানও একটি ধারণকৃত বক্তব্য পাঠান এবং পরবর্তীতে সরাসরি ভার্চুয়ালি যুক্ত হন, যদিও তিনি কোনো কথা বলেননি। এছাড়া দিল্লির ওই অনুষ্ঠান মঞ্চে সশরীরে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

এ ঘটনার পর ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ। সেখানে তিনি এবং তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেছেন। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনের দিনেই ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই অবস্থানকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান হিসেবে দেখছে ঢাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করা হয়, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশের জনগণ দৃঢ় সংকল্প নিয়েছে যে, জাতি আর কখনও ফ্যাসিবাদের অন্ধকার দিনগুলোতে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনও কোনো পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আর কোনো স্থান হবে না। সাজাপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তাঁর মাফিয়া প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের রাজনীতিতে কখনও স্থান পাবে না।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করা ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার একটি ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছেন শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও এখনও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, যে কোনো অজুহাতে তাঁকে গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রকাশ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত দিয়েছে এবং বাংলাদেশ-ভারতের সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর।

উল্লেখ্য, এই সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে গত সোমবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা যাতে দিল্লি থেকে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড চালাতে না পারেন, সে বিষয়ে সহায়তা চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। একই দিনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও এ ইস্যুতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট করার জোর দাবি জানিয়েছিলেন।



মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ