বাংলাদেশ-ভারত বৈঠকে হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
আগামী মাসে ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিবদের বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। সেখানে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যর্পণসহ বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন জনকূটনীতি বিভাগের মহাপরিচালক তৌফিক হাসান।
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
তৌফিক হাসান বলেন, 'বিষয়টি (শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ) নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।’
এদিকে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার সময় গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে পালিয়ে ভারতে থাকা শেখ হাসিনার বিচার চলছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
সরকার তাকে ফিরিয়ে আনার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও মহাপরিচালক তৌফিক হাসান বলেন, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পায়নি।
জনকূটনীতি বিভাগের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা দিল্লির সঙ্গে কথা বলব এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ পেলেই বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করব।’
এক প্রশ্নের জবাবে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) পর্যালোচনা প্রসঙ্গে তৌফিক হাসান বলেন, এগুলো বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।
তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সময় লাগবে। যদিও গত ১০০ দিনে সীমিত অগ্রগতি হয়েছে। আগামী মাসগুলোতে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির’ আশা রয়েছে।”
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কিছু ভারতীয় মিডিয়ায় নেতিবাচক প্রচারণার বিষয়টি উল্লেখ করে মুখপাত্র হাসান বলেন, ‘এই বিষয়টি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের নজরে আনা হয়েছে এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে যে, দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রচারণা অনাকাঙ্ক্ষিত।’
ভারতীয় ভিসা-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তৌফিক হাসান বলেন, ভারতীয় ভিসা সেন্টার চালু থাকলেও বর্তমানে মেডিকেল ও স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান ভ্রমণের বিষয়ে তিনি বলেন, 'বিষয়টি পর্যালোচনাধীন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যথাসময়ে আপডেট জানানো হবে।
এ ছাড়াও রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সক্রিয় কূটনীতির কথা তুলে ধরেন তৌফিক হাসান। যেখানে ২৫টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা।
সম্প্রতি এ ব্যাপারে জাতিসংঘ মহাসচিবকে একটি চিঠি পাঠিয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন ড. ইউনূস।
এ প্রসঙ্গে তৌফিক হাসান বলেন, বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়ার মাধ্যমে এই প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়া একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক, যা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।’

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে