সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে ঢাকার চিঠি
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক নোট (ডিপ্লোম্যাটিক নোট) ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ভারত সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপিও সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি উপস্থাপন করা যায়।
সূত্র আরও জানায়, প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান আইনি ও কূটনৈতিক কাঠামোর আওতায় পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি করা হয়।
মামলায় অভিযোগ ছিল, গণঅভ্যুত্থান চলাকালে বেসামরিক জনগণের ওপর পরিকল্পিত হামলা, হত্যাকাণ্ড এবং দমন-পীড়নের সঙ্গে তারা জড়িত ছিলেন। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই মামলায় তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধেও রায় ঘোষণা করা হয়। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ট্রাইব্যুনালের রায় কার্যকর করার আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানো হয়েছে।
মতামত দিন