Views Bangladesh Logo

তারেক রহমানকে ডিজিএফআই অমানবিক নির্যাতন করেছিল: সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল

২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সময়ে ডিজিএফআই কার্যত রাষ্ট্রের মুখ্য নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিল এবং ওই সময়ে বেসামরিক ব্যক্তি, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের তুলে এনে নির্যাতন করা হতো—এমন তথ্য দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ গুম-খুন সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি জানান, অনেক মন্ত্রী ও এমপির নির্দেশে বিএনপির সিনিয়র নেতা তারেক রহমানকেও ডিজিএফআই তুলে এনে অমানবিক নির্যাতন করে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চে দেওয়া জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, বেসামরিক ব্যক্তিদের ধরে এনে ডিজিএফআইয়ের সেলে আটকে রাখার প্রবণতা একপর্যায়ে ‘অভ্যাসে’ পরিণত হয়। এতে যেকোনো ব্যক্তিকে আটক করে ইচ্ছামতো আচরণ করার মানসিক বাধা ভেঙে যায় এবং সংশ্লিষ্টরা নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করেন।

তিনি সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ২০০৩ সালে ওই অভিযানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সরকারি হিসাবে ১২ জনের মৃত্যু ‘হার্ট অ্যাটাকে’ হয়েছে বলা হলেও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০। পরবর্তীতে অভিযানে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা কার্যত ‘লাইসেন্স টু কিল’-এর শামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুনানির শুরুতে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাজনীন নাহার ও মুনসুরুল হক চৌধুরী।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া সাক্ষ্য দেন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ