Views Bangladesh Logo

বিমান থেকে ফেলা ত্রাণের আশায় গাজার ক্ষুধার্ত মানুষেরা

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

সরায়েল-হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে দিনের পর দিন অনাহারে ভুগছে গাজাবাসী। এমতাবস্থায় আকাশপথে ফেলা ত্রাণের আশায় রয়েছেন গাজার ক্ষুধার্ত মানুষেরা। মঙ্গলবার ফিলিস্তিনের উত্তরাঞ্চলে সমুদ্র সৈকতে বিমান থেকে ফেলা হয় ত্রাণ। সেই ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে মারা যান ২০ জন।

হামাস সরকার ও সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছে, সেই ত্রাণ সংগ্রহ করতে সাগরে ঝাঁপ দেয় অনেকে। তাদের মধ্যে ১২ জন সাগরে ডুবে মারা গেছেন।

এ প্রসঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীরা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, সাগরে ডুবে যারা মারা গেছেন তারা 'যুবক ও শিশু'। তারা সাঁতার জানত না। তারা ত্রাণ সামগ্রী আনতে গিয়েছিল এবং পরে আর ফিরে আসেনি।

গাজা সিটির এক মেকানিক আহমেদ আল-রিফি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, "প্রত্যকেই ক্ষুধার্ত। তাই ত্রাণ আসলে খাবারের জন্য বিশৃঙ্খলা লেগে যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘ত্রাণের আটা, টিনজাত খাবার, পানি, মসুর এবং মটরশুটির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করতে গিয়ে মানুষ আহত হচ্ছে আবার মারাও যাচ্ছে।’

ট্যাক্সিচালক উদয় নাসের বলেন, 'পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটে যাচ্ছি শুধুমাত্র ত্রাণ পাওয়ার আশায়, যা মানবিক চেষ্টা হওয়া উচিত। তবে তা মারামারি ও একে-অপরকে মারধরে পরিণত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে গাজার এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, চলতি মাসের শুরুর দিকে ত্রাণ বহনকারী প্যারাসুটের পিছে ছুটতে গিয়ে ৫ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ইতোমধ্যে গাজার ক্ষুধার্ত মানুষের সাহায্যার্থে ফ্রান্স, জর্ডান, আমিরাত এবং জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশ উত্তর গাজায় বিমান থেকে ত্রাণ ফেলেছে। কারণ সেখানে স্থলপথে ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে ইসরায়েল।

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাস যোদ্ধারা অতর্কিত হামলা চলানোর পর ওই দিন থেকেই সেখানে অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ইসরায়েলি বাহিনীর গত ছয় মাসের অভিযানে গাজায় নিহত হয়েছেন ৩২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। আর আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৭৪ হাজার মানুষ।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ