গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস: প্রধানমন্ত্রী
দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপির অপর নাম একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। এ উপলক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।
বাণীতে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপির সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার দিন।
তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে দলটির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।
তারেক রহমান বলেন, মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জিয়াউর রহমান দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, খালেদা জিয়া তাঁর নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে বিএনপিকে দেশের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাণীতে তিনি বলেন, দেশে যখনই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগ করেছেন। দলের প্রতিষ্ঠার পর থেকে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা প্রাণ দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাঁদের অবদানও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জনগণ যখনই নির্ভয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন ও শোষণের অবসানের পর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিএনপি তাদের আস্থার প্রতিদান দিতে চায়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিএনপি সরকার কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা দেশসেবায় আগামী দিনগুলোতেও ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাণীর শেষদিকে তারেক রহমান বলেন, “দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। বিএনপির অপর নাম একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।”
মতামত দিন