Views Bangladesh Logo

রানা প্লাজার ১৩ বছর

বিচার, ক্ষতিপূরণ ও শ্রমিকবান্ধব রাষ্ট্রের দাবি

ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর পূর্তিতে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানিয়ে আবারও বিচার, ক্ষতিপূরণ ও শ্রমিকবান্ধব রাষ্ট্রের দাবি তুলেছেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।


বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, গার্মেন্টসশ্রমিকেরা গাড়ি–বাড়ি করার জন্য কাজ করেন না। তারা কোনোভাবে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। অথচ তাদের তৈরি পণ্য রপ্তানি করে কারখানার মালিকেরা সম্পদশালী হন। সেই শ্রমিকদেরই বেতন–বোনাসের দাবিতে আন্দোলন করতে হয়, এমনকি আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ দিতে হয়। আমরা এখনো শ্রমিকবান্ধব রাষ্ট্রের অপেক্ষায় আছি।

খায়রুল মামুন বলেন, কারখানার মালিক, ভবনের মালিক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গাফিলতির কারণেই অগ্নিকাণ্ড ও ভবনধসে শ্রমিকদের প্রাণহানি ঘটে। অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেন। কিন্তু বিচার, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও সুচিকিৎসার জন্য শ্রমিকদের বছরের পর বছর আন্দোলন করতে হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে ঘটনাস্থলে জড়ো হন নিহতদের স্বজন, আহত শ্রমিক, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মী, জার্মানির শ্রমিক সংগঠন ভার্ডির একটি নারী প্রতিনিধিদল এবং শিল্প পুলিশের সদস্যরা। তাঁরা নিহতদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও আলোচনা সভা করেন।

শিল্পকারখানায় নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে শ্রমিকবান্ধব সরকারের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অরবিন্দ ব্যাপারী বলেন, ২০১২ সালে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড এবং ২০১৩ সালে রানা প্লাজার ধসের মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও এখনো দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত হয়নি। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি হিসাবে ১ হাজার ১৩৮ জন নিহত হলেও বাস্তবে সংখ্যা আরও বেশি এবং প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক এখনো পঙ্গুত্ব ও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন; ১৩ বছরেও এসব দাবির বাস্তবায়ন হয়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন নিখোঁজ শ্রমিক নাহিদুল ইসলামের মা ফেরদৌসী বেগম, যিনি এখনো জানেন না তার ছেলে জীবিত নাকি মৃত। তার কণ্ঠে হতাশা, ‘লাশও পাই নাই, ছেলেকও পাই নাই। এখনো জানি না, সে বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে।’

সমাবেশে শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিহত ও আহত শ্রমিকদের পুনর্মূল্যায়ন করে ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা; বিশেষ চিকিৎসা দল গঠন; কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনা বিমা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি; দায়ীদের দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন; সহায়তার অর্থের হিসাব প্রকাশ; দায়ী মালিকদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যবহার; রানা প্লাজার সামনে স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ; এবং ২৪ এপ্রিলকে ‘শ্রমিক হত্যা দিবস’ ঘোষণা করে তৈরি পোশাক খাতে সাধারণ ছুটি দেওয়া।


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ