কুষ্টিয়া জেলা স্কুল মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজন পুনর্বিবেচনার দাবি
কুষ্টিয়া জেলা স্কুলের মাঠে আগামী ৩১ অক্টোবর ১১-দলীয় ঐক্যজোটের সমাবেশ আয়োজনের উদ্যোগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়টির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য রক্ষায় তাঁরা জেলা প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পক্ষে আন্দোলনকারীরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, কুষ্টিয়া জেলা স্কুল জেলার শিক্ষা, ঐতিহ্য ও সামাজিক বিকাশের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের মাঠে বড় ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশ হলে নিরপেক্ষ শিক্ষাঙ্গন হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতি ও সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, জোট বা মতাদর্শের বিরুদ্ধে নয়। বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সব দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে রাখার নীতিগত অবস্থান থেকে তাঁরা এ দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, শিক্ষাঙ্গন হওয়া উচিত জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মুক্তবুদ্ধির বিকাশের জায়গা।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, একটি রাজনৈতিক দল বা জোটকে বিদ্যালয়ের মাঠে সমাবেশের সুযোগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে অন্য দল ও জোটও একই সুযোগ দাবি করতে পারে। এতে মাঠের ব্যবহার নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা, বিরোধ ও বিতর্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ব্যবহারের বিষয়ে সুস্পষ্ট, লিখিত, নিরপেক্ষ ও সমতাভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, বড় রাজনৈতিক সমাবেশে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম, যানবাহনের চাপ এবং মাইক ও সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবহার বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করতে পারে। পাশাপাশি মাঠ ও অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, খেলাধুলা ও মানসিক বিকাশের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
স্মারকলিপিতে তিনটি দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, ৩১ অক্টোবরের সমাবেশের জন্য কুষ্টিয়া জেলা স্কুলের মাঠ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। ইতোমধ্যে অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকলে তা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, কুষ্টিয়া জেলা স্কুলসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে দলীয় রাজনৈতিক সমাবেশ ও অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়ে সুস্পষ্ট, নিরপেক্ষ ও সমতাভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। তৃতীয়ত, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষার পরিবেশ এবং প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও সুনাম রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্মারকলিপিতে আন্দোলনকারীরা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শিক্ষার্থীদের অধিকার, শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্নে সবার মধ্যে ন্যূনতম ঐকমত্য থাকা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে রাখার দাবি কোনো দলের প্রতি বিরূপ মনোভাবের প্রকাশ নয়; বরং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের স্বকীয়তা রক্ষার উদ্যোগ।
বিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মর্যাদা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা।
মতামত দিন