Views Bangladesh Logo

চাঁদের বুকে আছড়ে পড়বে স্পেসএক্সের রকেট, তৈরি হবে নতুন গর্ত

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

মহাকাশে ভাসতে থাকা স্পেসএক্সের একটি পরিত্যক্ত রকেট এবার অনিচ্ছাকৃতভাবে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে চাঁদের বুকে। এক বছরেরও বেশি সময় আগে দুটি চন্দ্রাভিযানে ব্যবহৃত এই রকেটের ঊর্ধ্বাংশ (আপার স্টেজ) এখন সরাসরি চাঁদের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। বুধবার এটি চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হানবে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা, যার ফলে সৃষ্টি হবে নতুন একটি গর্ত এবং মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়বে বিপুল পরিমাণ ধুলা ও পাথরের টুকরো।

মহাকাশবস্তু পর্যবেক্ষণে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ বিল গ্রের হিসাব অনুযায়ী, রকেটটি ঘণ্টায় প্রায় আট হাজার সাতশ কিলোমিটার বেগে অর্থাৎ শব্দের গতির প্রায় সাত গুণ বেগে চাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াবে। সূর্যালোকিত পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত আইনস্টাইন খাদের কাছাকাছি কোথাও এই সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে এটি গভীর রাতে ঘটলেও দেশটির পূর্বাঞ্চল, কানাডা ও দক্ষিণ আমেরিকার বড় অংশ থেকে ঘটনাটি অপেক্ষাকৃত ভালোভাবে দেখা যাবে।

যদিও এই একক ধ্বংসাবশেষ নিয়ে বিজ্ঞানীদের তেমন উদ্বেগ নেই, তবে ঘটনাটি পৃথিবীর কক্ষপথ ঘিরে ক্রমবর্ধমান মহাকাশ-জঞ্জালের সংকটকেই নতুন করে আলোচনায় এনেছে। বিল গ্রে বলেন, মহাকাশে বিভিন্ন বস্তুর জটলা দিন দিন বাড়ছে। তিনি নিজে কানাডার নিউ ব্রান্সউইক থেকে এই সংঘর্ষ-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, স্পেসএক্সের মূল পরিকল্পনায় রকেটটিকে চাঁদে ফেলার কোনো অভিপ্রায় ছিল না; উৎক্ষেপণের পর একে সূর্যকেন্দ্রিক কক্ষপথে পাঠানো গেলে এই পরিণতি এড়ানো যেত।

এর আগে ২০২২ সালে একটি চীনা রকেটের অংশবিশেষ চাঁদের দূরবর্তী প্রান্তে আছড়ে পড়ে দুটি গর্তের সৃষ্টি করেছিল। এবারের ঘটনাটি হবে এ ধরনের দ্বিতীয় অনিচ্ছাকৃত সংঘর্ষ, তবে এটি ঘটবে চাঁদের পৃথিবীমুখী পাশে। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, আঘাতের শক্তি হবে প্রায় তিন টন টিএনটি বিস্ফোরকের সমান। সংঘর্ষের মুহূর্তে সৃষ্ট আলোর ঝলক এক সেকেন্ডেরও কম সময় স্থায়ী হবে বলে পৃথিবী থেকে খালি চোখে তা দেখা কঠিন হবে। তবে সৃষ্ট ধুলা ও শিলাখণ্ডের মেঘ কয়েক মাইল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে বেশ কয়েক মিনিট টেলিস্কোপে দৃশ্যমান থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যালামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফার্নান্দো জানান, চাঁদে মহাকর্ষ কম এবং বায়ুমণ্ডল না থাকায় সৃষ্ট ধুলা সহজে মিলিয়ে যায় না। তিনি পেশাদার-অপেশাদার সব ধরনের পর্যবেক্ষককে ঘটনাটি নিবিড়ভাবে লক্ষ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, ভবিষ্যতে চাঁদে যাওয়া নভোচারীদের জন্য মহাকাশ আবর্জনার সম্ভাব্য ঝুঁকি বুঝতেও এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার প্রাক্কলন অনুযায়ী, সংঘর্ষে প্রায় ২৭ মিটার চওড়া ও ৫ মিটার গভীর একটি গর্তের সৃষ্টি হবে, যা পৃথিবী থেকে দেখা না গেলেও চাঁদের কক্ষপথে থাকা মহাকাশযানগুলো স্পষ্টভাবে ধরতে পারবে। এ লক্ষ্যে সংঘর্ষের আগে ও পরে ওই স্থানের ছবি তুলবে নাসার লুনার রিকনাইস্যান্স অরবিটার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার চন্দ্র কক্ষপথযান দানুরি।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ