গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে পুলিশের ব্যবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত: স্পিকার
জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পুলিশ কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, তা দেখে তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে জানতে চাইলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে এ কথা বলেন।
তবে দল থেকে বহিষ্কারের কারণে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে না বলেও জানান স্পিকার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। বিষয়টি জানিয়ে স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছিল দলটি। তবে এখনো তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল রয়েছে।
এর মধ্যে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন গাজী নজরুল। গত রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মরিয়মের বাবা মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে গাজী নজরুল বর্তমানে রিমান্ডে আছেন। এক দিনের রিমান্ড শেষে তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে জানতে চাইলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী তাঁকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। তবে কোনো সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয় না।
স্পিকার বলেন, কোনো সংসদ সদস্য নিজে দল থেকে পদত্যাগ করলে বা দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হয়।
আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুলের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, এখন পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয়, তাঁরা সেটি দেখার অপেক্ষায় আছেন। পুলিশের ব্যবস্থা সম্পর্কে জানার পর নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হবে। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আদালতও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হবে। আর সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে কি না, সে সম্পর্কে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। এ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং এই পদে থাকার বেশ কিছু যোগ্যতার কথা বলা আছে। সেগুলোর একটি হলো নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত এবং তাঁর মুক্তির পর পাঁচ বছর পার না হলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়া এবং পদে থাকার অযোগ্য বিবেচিত হবেন।
গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের পর তাঁকে সংসদীয় কমিটিতে না রাখার জন্যও সরকারি দলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিল জামায়াত। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে দুটি সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু ৭ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটিতে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল। পরে জামায়াতের আপত্তির কারণে তাঁর নাম বাদ দিয়ে ওই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের পর তাঁকে সংসদীয় কমিটিতে না রাখার জন্য সরকারি দলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে দুটি সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়।
তবে গত ৭ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটিতে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল। পরে জামায়াতে ইসলামীর আপত্তির পর তাঁর নাম বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
এ নিয়ে সেদিন সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেছিলেন, কোনো সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে সংবিধান অনুযায়ী তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয় না। তিনি নিজে পদত্যাগ না করলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হয় না।
মতামত দিন