সীমান্তে অনুপ্রবেশ বা অপরাধে নিহত হলে তাকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সীমান্তে সংঘটিত সব ধরনের মৃত্যুকে ‘বর্ডার কিলিং’ হিসেবে অভিহিত করা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সীমান্তের জিরো লাইন বা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বিদেশি বাহিনী কর্তৃক কোনো বাংলাদেশি নিহত হলে সেটিকে সীমান্ত হত্যা বলা যেতে পারে। তবে কেউ যদি অবৈধভাবে অন্য দেশে প্রবেশ করে বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে এবং সে দেশের অভ্যন্তরে নিহত হয়, তাহলে তাকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা যথাযথ হবে না।
মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আসন্ন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিয়মিত বার্ষিক বৈঠক। বৈঠকে সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ এবং উভয় পক্ষের উদ্বেগের বিষয়গুলো আলোচনা করা হবে।
সীমান্তে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টির প্রকৃতি বুঝে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। যদি কোনো বিদেশি বাহিনী বাংলাদেশের সীমান্তে বা জিরো লাইনে এসে কাউকে হত্যা করে, তাহলে সেটি সীমান্ত হত্যা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু অন্য দেশের সীমানার ভেতরে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে ব্যবস্থা নেয়, তা ওই দেশের নিজস্ব আইনের আওতায় পড়ে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কথিত ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে লোকজনকে সীমান্তে জড়ো করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং সীমান্তে বিজিবিকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ কোনো ধরনের অবৈধ ‘পুশইন’ বা ‘পুশব্যাক’ সমর্থন করে না।
মন্ত্রী আরও জানান, যদি কোনো ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হন এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচয় যাচাই করে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কাছে তথ্য পাঠায়, তাহলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনানুগ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তবে বর্তমানে এ ধরনের কোনো বিষয় সরকারের কাছে ঝুলে নেই।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে