সিলেটে নিহত বেড়ে ৯, বগুড়াসহ দুই জেলায় প্রাণ গেল ১৬ জন
শুক্রবার ভোরে সিলেট ও বগুড়ায় পৃথক দুটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের ওসমানীনগরে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বগুড়ার শাজাহানপুরে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি বাস শ্রমবাজারে ঢুকে পড়লে ৭ জনের মৃত্যু হয়। দুটি দুর্ঘটনাতেই আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জনের বেশি মানুষ, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শুক্রবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন (দয়ামীর) এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি মহাসড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায়। অপরদিকে বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি সড়কের ওপরই ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৮ জন নিহত হন। পরে গুরুতর আহত একজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে পৌঁছায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন।
এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জনকে গুরুতর অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।
নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার বাসিন্দা সপ্তম রায় প্রীতম (২২) এবং ঢাকার বিক্রমপুরের বাসিন্দা খোজাইফা (৩)। তারা দুজনই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন। বাকি নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
এদিকে একই দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় আরেকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে সড়কের পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। পরে বাসটি উল্টে গিয়ে রাস্তার পাশে কাজের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকদের ওপর উঠে যায়।
এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে বগুড়ার দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একই দিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বড় সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১৬ জনের প্রাণহানির ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনা দুটির কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়ক স্বাভাবিক করার কাজও চলছে।
মতামত দিন