সিলেটে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড
সিলেটে চাঞ্চল্যকর শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যা মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট মহানগর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু উবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মো. জাকির হোসেন (৩০) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে। নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) একই গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে।
সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বদরুল ইসলাম চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জাকির হোসেনের দুই ভাই জয়নাল আবেদিন ও মো. আবুল কালামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার রায় ঘোষণা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এতে আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।
এদিকে মামলায় দুই আসামি খালাস পাওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ফাহিমার পরিবার। ফাহিমার বাবা রাইসুল হক জানান, লাশ গুমের ঘটনার সাথে জড়িতরা খালাস পেয়ে গেছে। তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে এবং জাকিরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করতে হবে। দুই আসামি খালাস পাওয়ার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান তিনি।
আদালত সূত্র জানায়, গত ৭ মে সোনাতলা গ্রামে প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেন সিগারেট এনে দেওয়ার অজুহাতে শিশু ফাহিমাকে নিজের ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে ধরা পড়ার ভয়ে তাকে গলা টিপে হত্যা করে জাকির। লাশ গুম করতে দুদিন নিজ ঘরে একটি সুটকেসে লুকিয়ে রাখার পর বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেয়।
পরবর্তীতে ৮ মে সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ জাকিরকে গ্রেপ্তার করে। জাকির আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করার পর ঘটনার ৩৩ দিনের মাথায় তার ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। এতে প্রধান আসামি জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আবেদিন ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগপত্রে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে তার দুই ভাই জয়নাল ও কালামকে আসামি করা হয়।
গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দুদিন পর গত ৮ মে রাতে বাড়ির পাশ্ববর্তী ডোবা থেকে ফাহিমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির। ১ জুলাই বিচারকাজ শুরু হওয়ার পর প্রায় এক মাসের দ্রুততম বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় দেন।
এদিকে ফাহিমাকে খুনের ঘটনায় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা জাকিরের বাড়িতে একাধিকবার হামলা ও ভাংচুর চালায়। এছাড়া সরকারের মন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে সমবেদনা ও দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন।
মতামত দিন