Views Bangladesh Logo

প্রেমিকাকে শ্বাসরোধে হত্যা, ছয় বছর পর প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড

ঢাকার আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় প্রেমিকা শাহিনা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় প্রেমিক শরিফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঘটনার প্রায় ছয় বছর পর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

রোববার (২ আগস্ট) ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুনির হোসেন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন। রায়ে শরিফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজুল ইসলাম সজীব।

মামলার নথি অনুযায়ী, শাহিনা খাতুন ও শরিফুল ইসলাম আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার একটি পোশাক কারখানায় অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থলে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা একই এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।

তদন্তে উঠে আসে, শরিফুল আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন এবং তার দুটি সন্তান রয়েছে। একপর্যায়ে শাহিনা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। অন্যদিকে শরিফুল প্রথম স্ত্রীর কাছে ফিরে যেতে চাইলে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১৯ মার্চ দুপুরে এ বিরোধের জেরে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে শরিফুল শাহিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘরের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান। তিন দিন পর ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে শাহিনার মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ২০২০ সালের ২২ মার্চ নিহতের ভাই মো. রাহিন আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ অক্টোবর আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফজল আলী শরিফুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৭ মার্চ আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন। বিচার চলাকালে ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে আটজনের সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন এবং শরিফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ