Views Bangladesh Logo

সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মৃত্যু : অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে বাবার হত্যা মামলা

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করেছেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। মামলায় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আসামি না করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নেওয়া বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তিনি জানান, তাহসিফের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি করেছেন। মামলার অন্যান্য বিষয় জানতে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের ডাকে তিনি বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। এর আগে বাসার গ্যারেজের সিসিটিভি ফুটেজে দুজনকে একসঙ্গে দেখা যায়। পরে তারা আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে সেখান থেকে চলে যান।

পরিবারকে দীপ জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারা একটি ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন। কাজ শেষে একসঙ্গে খাবার খেয়ে আলাদা হয়ে যান। তবে পরবর্তী সময়ে তদন্তে তাদের রাতের চলাফেরা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসে।

২৮ অক্টোবর বিকেলে টঙ্গীর রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা মুঠোফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরদিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২৯ অক্টোবর রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরদিন তাকে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় যায় তদন্ত দল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখান থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি কালো রঙের সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলটির মালিকানা ও ঘটনার সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ের কথাও জানায় তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।

পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তারা তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদে ঝাঁপ দেন। তবে তার এই বক্তব্যের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তাহসিফের বাবা জানিয়েছেন, তার ছেলে সাঁতার জানতেন। ফলে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর পানিতে ডুবে মৃত্যুর যে বর্ণনা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে পরিবারের।

এদিকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। নৌ পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম জানিয়েছিলেন, পরিবার মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: ৩১ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে প্রকাশিত অনুসন্ধানযোগ্য প্রতিবেদনেও মামলার বিষয়ে পরিবার ও পুলিশের সিদ্ধান্তহীনতার কথা রয়েছে। আপনার দেওয়া নতুন মামলার তথ্য এবং উত্তরখান ও দক্ষিণখান থানার নামের অসংগতিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তাই মামলাটি দায়েরের তথ্য নিশ্চিত না করে সেটিকে প্রতিষ্ঠিত সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা ঠিক হবে না।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ