অবশেষে শাহজালাল মাজারের ডেগের তালা খুলে দিলেন ডিসি সারওয়ার
হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে থাকা সিলগালা করা তিনটি ডেগের তালা খুলে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলম। একই সঙ্গে প্রশাসনের স্থাপন করা দানবাক্সগুলোও খুলে গত পাঁচ দিনে জমা হওয়া অর্থ গণনার কাজ শুরু হয়েছে। সোমবার বিকাল ৩টার দিকে দানবাক্সগুলো খোলা হয় এবং বর্তমানে টাকা গণনার কার্যক্রম চলছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সারওয়ার আলম নিজে মাজারে উপস্থিত হয়ে এসব কার্যক্রম তদারকি করেন। এর আগে প্রশাসনের উদ্যোগে সিলগালা করা ডেগগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং নতুন করে স্থাপিত দানবাক্সগুলো খুলে হিসাব নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকালে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে থাকা দানের তিনটি ডেগ সিলগালা করেছিল জেলা প্রশাসন। তার বদলে প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছিল। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে দানবাক্স স্থাপনের পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যও নিয়োজিত করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্র অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১২ জুন) সারওয়ার আলম হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকালে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয় এবং দানের নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার ঐতিহাসিক তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়। জেলা প্রশাসনের ভাষ্য ছিল, মাজারের দান সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতেই এই পদক্ষেপ — এখন থেকে ভক্তদের সব দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা দানবাক্সে জমা হবে, হাতে হাতে দান নেওয়ার পুরনো রীতি বন্ধ থাকবে।
এই উদ্যোগের পর সেদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজারভক্তরা দরগাহ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে ‘শাহজালাল, শাহজালাল’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন। প্রশাসনের দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মাজারের খাদেম, আশেকান ও ভক্তদের একটি বড় অংশ এই পদক্ষেপকে মাজারের অভ্যন্তরীণ ঐতিহ্য ও ব্যবস্থাপনায় অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেন। ‘আশেকানে আউলিয়া বাংলাদেশ’-এর মতো কিছু সংগঠন এ নিয়ে ডিসি সারওয়ার আলমের কড়া সমালোচনা করে এবং তাকে ব্যর্থ জেলা প্রশাসক বলে আখ্যা দেয়।
এই বিতর্কের মধ্যে রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করে। প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না থাকলেও, দানবাক্স ও তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং মাজার এলাকায় জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের জেরে সৃষ্ট বিতর্ক ও সমালোচনার কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন অনেকে।
মতামত দিন