রাজশাহীতে দিনব্যাপী ব্যুত্থান প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
রাজশাহীতে দিনব্যাপী ব্যুত্থান প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যুত্থান অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ৩ অক্টোবর রাজশাহীর ইভনিং হলে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
গ্র্যান্ডমাস্টার সিদ্ধাচার্য ইউরী বজ্রমুনির তত্ত্বাবধানে আয়োজিত কর্মশালায় নিবিড় প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন ইন্সট্রাক্টর আবুল কালাম আজাদ (৫ম ডিগ্রি ব্ল্যাক বেল্ট), সলমন গ্রীন (৩য় ডিগ্রি ব্ল্যাক বেল্ট) এবং শাভিন (২য় ডিগ্রি ব্ল্যাক বেল্ট)।
কর্মশালায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যুত্থান প্রশিক্ষক ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ব্যুত্থান অনুশীলনকারী ও প্রশিক্ষকদের কারিগরি দক্ষতা, প্রশিক্ষণদানের মান, দার্শনিক উপলব্ধি এবং নিয়ম-কানুন সম্পর্কে জ্ঞান আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা ব্যুত্থানের মৌলিক কৌশল, বজ্রপ্রাণ ব্যায়াম, ব্যুত্থান দর্শন, ‘ডায়মন্ড রুল বুক’-এর বিধি ও মানদণ্ড এবং ব্যুত্থান কো-কম্পিটিশন বা সহ-প্রতিযোগিতার বিধিমালা সম্পর্কে কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণে ব্যুত্থানের স্বতন্ত্র মূলনীতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আত্মরক্ষা, শারীরিক সক্ষমতার উন্নয়ন, শৃঙ্খলা, নৈতিক আচরণ, শক্তির নিয়ন্ত্রিত প্রয়োগ এবং ব্যক্তিগত রূপান্তর—এসব বিষয়কে ব্যুত্থানের মূল চর্চার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
সহ-প্রতিযোগিতা প্রশিক্ষণে পারস্পরিক সম্মান, নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও গঠনমূলক প্রতিযোগিতামূলক মূল্যবোধ বজায় রেখে ক্রীড়া দক্ষতা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যুত্থান অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরি, অভিন্ন কারিগরি মান প্রতিষ্ঠা এবং সারাদেশে সংগঠিত ব্যুত্থান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যুত্থানের উন্নয়ন ও প্রসারে অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়।
ব্যুত্থান (Butthan) একটি বাংলাদেশি মার্শাল আর্ট ও আত্মরক্ষামূলক ক্রীড়া। সংগঠনটি আত্মরক্ষা, শারীরিক ও মানসিক উন্নয়ন, শৃঙ্খলা এবং গঠনমূলক মানবিক মূল্যবোধের ওপর এ ক্রীড়ার চর্চা কেন্দ্রীভূত।
বাংলাদেশ ব্যুত্থান অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটি ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালে জাতীয় ক্রীড়া কাউন্সিল, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যুত্থানকে জাতীয় ক্রীড়া হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সম্প্রতি ইউনেস্কো-আইসিএমের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও ব্যুত্থানকে স্থান দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
মতামত দিন