Views Bangladesh Logo

অনলাইন জুয়ায় দৈনিক ৫ কোটি টাকা লেনদেন, ৬৬০০ সিমসহ গ্রেপ্তার ৬: ডিবি

গাজীপুর ও কুমিল্লায় পৃথক অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ৬ হাজার ৬০০টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটি প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকার লেনদেন করত এবং সেই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করত।

বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, টঙ্গীর একটি রিসোর্ট ও কুমিল্লার একটি হোটেলে আলাদা অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), আরমান হোসেন জিহাদ (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আবদুল রাব্বী (২৩), কৌশিক আহমেদ শুভ (২৩) ও মশিউর রহমান তারেক (২০)।

অভিযানে এমএফএস অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ৬ হাজার ৬০০ সিম কার্ড ছাড়াও আরও ৬৭টি সিম কার্ড, ৭০টির বেশি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ ও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে বলে জানান ডিবি কর্মকর্তারা।

শফিকুল ইসলাম জানান, সাইবার নজরদারির মাধ্যমে বেশ কয়েকটি অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ শনাক্ত করেন ডিবি কর্মকর্তারা। তদন্তে দেখা যায়, এসব প্ল্যাটফর্মে এমএফএস এজেন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন চলছিল, আর সেই সূত্র ধরেই চক্রটির সন্ধান পায় ডিবি।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল প্রথমে টঙ্গীর রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে কুমিল্লার হোটেলে অভিযান চালিয়ে বাকি তিনজনকে ধরা হয়। ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, চক্রটি বড় বড় রেজিস্টার খাতায় হাজার হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্টের হিসাব রাখত এবং সুশৃঙ্খলভাবে কার্যক্রম চালাত।

শফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে চালানো কয়েকটি অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপের পেছনের পেমেন্ট কোম্পানিগুলো চীনা নাগরিকেরা নিয়ন্ত্রণ করছেন। স্থানীয় পর্যায়ে লেনদেনের জন্য অপারেটররা বাংলাদেশিদের কাছ থেকে এমএফএস ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করতেন, এরপর সেই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে পাচার করা হতো। জব্দ ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, চক্রটি দৈনিক প্রায় ৫ কোটি টাকার লেনদেন করত।

পুলিশ আরিফুল ইসলাম রিফাতকে চক্রের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ডিবির তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই চারটি মামলা রয়েছে। শফিকুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে আরিফুল ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করতেন। গ্রেপ্তারের সময় তিনি একটি রিসোর্টে তিনটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে ছিলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের মূল হোতা ‘নাতান’ নামের এক চীনা নাগরিক। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ