Views Bangladesh Logo

আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: কারখানায় অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ তিতাসের

সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ায় কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আটজন নিহত ও ২৬ জন আহত হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সিএনজি স্টেশন থেকে পরিবহনযোগ্য সিলিন্ডারে গ্যাস এনে প্রীটি কম্পোজিং লিমিটেডের কারখানায় ব্যবহার করা হতো।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কারখানা চত্বরে থাকা কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়লে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

কারখানা চত্বরে থাকা আটটি কাভার্ড ভ্যানের গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এতে ঘটনাস্থলে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজন মারা যান। নিহতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। বিস্ফোরণের সময় কারখানার বাইরে থাকা ওই নারী সিলিন্ডারের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

আহতদের মধ্যে চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়। এখন পর্যন্ত নিহত আটজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তারা হলেন গাজীপুরের কাশিমপুরের ইসরকান্দি এলাকার জয়নব বেগম (৫৫) এবং মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামের নজরুল ইসলাম (৩০)। কাভার্ড ভ্যান থেকে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি মরদেহের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির কর্মকর্তারা বলছেন, সিএনজি স্টেশন থেকে পরিবহনযোগ্য সিলিন্ডারে গ্যাস নিয়ে শিল্পকারখানা বা গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। তাদের অভিযোগ, প্রীটি গ্রুপের কারখানাগুলোতে এভাবেই গ্যাস এনে ব্যবহার করা হতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তিতাসের নজর এড়াতে কাভার্ড ভ্যানে করে এসব সিলিন্ডার আনা-নেওয়া করা হতো বলে দাবি তাদের।

তিতাস গ্যাসের মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. আল আমিন বলেন, পরিবহনযোগ্য সিলিন্ডারে সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস সরবরাহ বা বিক্রি না করার জন্য দেশের সব সিএনজি স্টেশনকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও কিছু স্টেশন বেশি মুনাফার আশায় শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়ির জেনারেটর চালাতে এসব সিলিন্ডারে গোপনে গ্যাস সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। ঘটনা তদন্তে সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা উত্তরের জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্ফোরণের মূল কারণ জানা যাবে।

এদিকে ঘটনার পর কারখানাটিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য কারখানাটি ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।

পাশাপাশি শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, কারখানায় গ্যাস ব্যবহারে কোনো অনিয়ম ছিল কি না এবং দুর্ঘটনার জন্য কারও দায় রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ