পাঠাওয়ে সাইবার হামলা, ব্যবহারকারীদের নাম-ইমেইল ও ফোন নম্বর দুর্বৃত্তদের হাতে
ডিজিটাল সেবা প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য নিজেদের কাছে থাকার দাবি করেছে একটি সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী। এসব তথ্য প্রকাশ না করার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছে চার লাখ ডলার দাবি করেছে তারা। পাঠাও জানিয়েছে, সাইবার নিরাপত্তাজনিত ঘটনায় ব্যবহারকারীদের নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দুর্বৃত্তদের হাতে গেছে।
সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ডেইলি ডার্ক ওয়েব গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেয়। সেখানে ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত একটি পোস্টের স্ক্রিনশটও শেয়ার করা হয়। তবে তথ্য ফাঁসের বিষয়ে গোষ্ঠীটির দাবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার পর এক লিখিত বিবৃতিতে পাঠাও জানায়, দুষ্কৃতকারীরা ব্যবহারকারীদের নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য পেয়েছে। ঘটনাটি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। পাঠাওয়ের সিস্টেম সুরক্ষিত রাখতে বাইরের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
পাঠাও জানায়, গত ৪ অক্টোবর সাইবার নিরাপত্তাজনিত একটি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এতে প্ল্যাটফর্মটির বিভিন্ন সেবা বিঘ্নিত হয়। অল্প সময়ের মধ্যে সেবা আবার চালু করা হয়েছে। তবে সিস্টেম পুরোপুরি স্থিতিশীল করার কাজ চলায় ব্যবহারকারীরা সাময়িকভাবে কিছু কারিগরি সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন।
১৩৩ গিগাবাইট তথ্য থাকার দাবি
ডেইলি ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত পোস্টে দাবি করা হয়েছে, গোষ্ঠীটির কাছে পাঠাওয়ের প্রায় ১৩৩ গিগাবাইট তথ্য রয়েছে। এতে প্রায় ২৫ কোটি রেকর্ড ও ৫৯১টি তথ্যভান্ডার রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় তথ্যভান্ডারে ১ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৯১৮টি হিসাবের তথ্য থাকার দাবি করেছে তারা।
পোস্ট অনুযায়ী, এসব তথ্যের মধ্যে ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর ও মুঠোফোন নম্বর, ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য, প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর ছবি এবং প্রায় ৫৭ লাখ বাসার ঠিকানা রয়েছে।
এ ছাড়া পাঠাওয়ের অভ্যন্তরীণ ও ব্যবসায়িক তথ্যও নিজেদের কাছে থাকার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। এসব তথ্যের মধ্যে কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য, প্রশাসনিক প্রবেশাধিকারের নথি, ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব ও ব্যাংকের শাখা শনাক্তকরণ নম্বর, আর্থিক লেনদেনের তথ্য, পণ্য সরবরাহের অবস্থান এবং চালকদের যাত্রার নথি থাকার কথা বলা হয়েছে।
তথ্য প্রকাশ না করার বিনিময়ে পাঠাওয়ের কাছে চার লাখ ডলার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। অর্থ না দিলে এনআইডি, ব্যাংক, কর্মী ও প্রশাসনিক তথ্য প্রকাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মতামত দিন