বাপেক্সকে কার্যত দুর্বল করে রাখার কারণেই বর্তমান জ্বালানি সংকট: প্রধানমন্ত্রী
দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নীতিকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ওই সময়ে সরকারি গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে কার্যত দুর্বল করে রাখা হয়েছিল। পর্যাপ্ত দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান না হওয়া এবং আমদানিনির্ভরতা বাড়ার কারণেই বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বেলা সাড়ে ৩টায় অধিবেশন শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তারেক রহমান বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ১০টি কূপ খনন এবং ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে আরও সাতটি কূপ খননের কাজ চলছে। এগুলো শেষ হলে দৈনিক আরও প্রায় ৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে।
দেশে নতুন গ্যাসের মজুত খুঁজতে ব্যাপক ভূকম্পন জরিপের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এর আওতায় ৫ হাজার ৬০০ লাইন কিলোমিটার এলাকায় দ্বিমাত্রিক এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক সাইসমিক জরিপ পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে আরও দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলছে।
অফশোর ও অনশোর এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। সমুদ্র ও স্থলভাগে অনুসন্ধানের মাধ্যমে নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
এ ছাড়া এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সেখান থেকে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি সরবরাহের আশা করছে সরকার। এর পাশাপাশি আগামী দুই বছরে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পায়রা বা মোংলা বন্দর এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় আরও একাধিক ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে।
মতামত দিন