সাভারে তিনতলা ভবনে সিটিটিসির অভিযান, এখন পর্যন্ত যা যা উদ্ধার হলো
সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকায় একটি তিনতলা ভবন প্রায় চার ঘণ্টা ধরে ঘিরে রেখেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
পুলিশ বলছে, ভবনটি থেকে ১৪টি শক্তিশালী পাইপ বোমা, বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম এবং জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন তিনতলা ভবনটি ঘিরে অভিযান শুরু করে সিটিটিসি। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ভবনটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এ সময় ভবনের আশপাশে সাধারণ মানুষের চলাচলও সীমিত করে দেওয়া হয়।
সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, ভবনটির ভেতরে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ মজুত থাকার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের আগে ভবনটিতে তালা লাগানো ছিল। পরে ভেতরে প্রবেশের প্রস্তুতি নেয় সিটিটিসির সদস্যরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটিটিসির এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ভবনের ভেতরে বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম মজুত থাকার তথ্য পাওয়ার পর তারা অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। অভিযানে সিটিটিসির পাশাপাশি স্থানীয় থানা পুলিশ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
এর আগে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে একজনকে পাঁচটি ককটেল ও বিস্ফোরকসহ আটক করা হয় বলে জানান সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শ্যামপুরের ওই ভবনে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রাতে এক ব্রিফিংয়ে ওসি সাইফুল আলম বলেন, ‘আজ হেমায়েতপুর এলাকা থেকে একজনকে ৫টি ককটেল ও বিস্ফোরকসহ আটক করে সিটিটিসি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, ভবনটি চলতি মাসের শুরুতে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) কাজ।’
অভিযানে ভবনটি থেকে জেএমবির বেশ কিছু লিফলেট, কয়েকটি ককটেলসদৃশ বস্তু এবং বোমা তৈরির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উপকরণ ও সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানান তিনি।
পরে রাত ১২টার দিকে ওসি সাইফুল আলম বলেন, আটক ব্যক্তির সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি পাঁচটি শক্তিশালী পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভবনের নিচতলার একটি কক্ষ থেকে একই ধরনের আরও নয়টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ১৪টি পাইপ বোমা উদ্ধারের কথা জানিয়ে ওসি বলেন, ওই কক্ষ থেকে বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযানও চালানো হচ্ছে। ভবনটি ঘিরে রাখার মূল উদ্দেশ্য ছিল আশপাশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এদিকে অভিযানের কারণে ভবনটির আশপাশে সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ভবনের সামনের সড়কেও সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্থানীয়রা বলেন, প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা ধরে সিটিটিসির সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে রেখেছেন। তারা ভবনের সামনের রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।
স্থানীয় পুলিশকে অভিযানটির কারণ সম্পর্কে আগে থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি বলেও জানান সাভার মডেল থানার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, সিটিটিসিকে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। অভিযানের বিস্তারিত পরে সিটিটিসির পক্ষ থেকে জানানো হবে বলে তাঁকে জানানো হয়।
যেভাবে ভাড়া দেওয়া হয় ভবনটি
ভবনের মালিক আব্দুল জলিলের মেয়ে ইলমা জানান, আব্বাস আলী নামে একজন ও আরও এক ব্যক্তি বাসাটি ভাড়া নিতে এসেছিলেন। তাঁদের গত ২ তারিখে বাসা ভাড়া দেওয়া হয়।
ইলমা আরও বলেন, ‘তারা বলেছিলেন স্বামী-স্ত্রী থাকবেন। পাশের একটি স্কুলে ছেলেমেয়েদের ভর্তি করবেন। ফ্যামিলি ভেবে আমরা ভাড়া দিয়েছি। ভেতরে যে এত কিছু লুকিয়ে রাখছে, এটা তো আমরা জানি না।’
ভাড়াটিয়ারা নিজেদের চালক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘তারা বলছিল, তারা ড্রাইভার, গাড়ি চালায়।’
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ভবনটি ভাড়া নেওয়ার পর সেখানে বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম মজুত করা হয়। তবে ভবনের মালিকপক্ষের দাবি, ভাড়াটিয়ারা কী উদ্দেশ্যে এসব সামগ্রী সেখানে রেখেছিলেন, সে সম্পর্কে তাঁদের কোনো ধারণা ছিল না।
মতামত দিন