Views Bangladesh Logo

দেশে এলো ক্রুড অয়েলের জাহাজ, উৎপাদনে ফিরছে ইআরএল

দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে একটি জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর এটিই দেশে আসা প্রথম ক্রুডবাহী জাহাজ।

বুধবার (৬ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া পয়েন্টে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি নোঙর করে। এতে প্রায় এক লাখ টন ক্রুড অয়েল রয়েছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বড় জাহাজ থেকে তেল খালাস করতে আগে থেকেই দুটি লাইটার ট্যাংকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব ট্যাংকারে তেল স্থানান্তরের পর তা বন্দরের ডলফিন জেটিতে এনে পাইপলাইনের মাধ্যমে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পাঠানো হবে। এই ক্রুড অয়েলই দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারিটির প্রধান কাঁচামাল, যা থেকে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেনসহ প্রায় ১৩ ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করা হয়।

এর আগে প্রায় আড়াই মাস দেশে কোনো ক্রুড অয়েলের জাহাজ আসেনি। সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরে একটি জাহাজ ভিড়েছিল। কাঁচামালের সংকটে ইআরএল গত দেড় মাস ধরে পাইপলাইনে জমে থাকা ‘ডেডস্টক’ তেল ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। এ সময় উৎপাদন দুই-তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনা হয় এবং জ্বালানির ধরনও ১৩ থেকে কমিয়ে মাত্র দুইটিতে সীমিত রাখা হয়। ফলে রিফাইনারিটি প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে পড়ে।

জানা গেছে, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ছেড়ে আসা ‘এমটি নিনেমিয়া’ জাহাজটি ইআরএলের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ৭ মে থেকে আবারও পুরোদমে উৎপাদনে ফিরতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে, আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আনতে ‘এমটি ফসিল’ নামের আরেকটি ট্যাংকার আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে জাহাজটিতে তেল লোড করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হলে চলতি মাসেই সেটিও দেশে পৌঁছাতে পারে। এতে মে মাসে মোট দুই লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের আওতায় গভীর সমুদ্র থেকে মহেশখালীর স্টোরেজ ট্যাংক হয়ে ইআরএল পর্যন্ত পাইপলাইনে সবসময় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল জমা থাকে, যা ‘ডেডস্টক’ নামে পরিচিত। জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া সাধারণত এই তেল ব্যবহার করা হয় না। তবে সাম্প্রতিক সংকট মোকাবিলায় সেই ডেডস্টক ব্যবহার করেই কোনোভাবে উৎপাদন সচল রাখা হয়েছিল।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর এম মাহমুদুল মালেক বলেন, নতুন করে ক্রুড অয়েল আসায় জ্বালানি উৎপাদন স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ‘নর্ডিক পোলাক্স’ নামে আরেকটি ট্যাংকার জাহাজ এখনও আটকে আছে। একই কারণে ‘ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামের একটি জাহাজ বাংলাদেশমুখী যাত্রা বাতিল করেছে। এসব কারণে দেশে সাময়িকভাবে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছিল।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ