Views Bangladesh Logo

বাগেরহাটের মাজারের দিঘিতে কুমিরের কুকুর ধরার ঘটনা, আসলে কী ঘটেছিল

বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে কুমির একটি কুকুরকে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। লাখো মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন এবং বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। অনেকে দাবি করছেন, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে মাজারের খাদেম, নিরাপত্তাপ্রহরী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এ দাবি গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন।

ঘটনাটি ৮ এপ্রিল বুধবার বিকেলের। উপস্থিত লোকজনদের দাবি, মাজার-সংলগ্ন দিঘির ঘাটে একটি অসুস্থ কুকুর হঠাৎ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং একটি শিশুসহ কয়েকজনকে কামড় দেয়। দু-তিনটি মুরগিও মেরে ফেলে। কুকুরটিকে তাড়াতে কয়েকজন লাঠি ছোড়েন। তাড়া খেয়ে কুকুরটি নারীদের ঘাটের দিক দিয়ে মূল ঘাটে গিয়ে সেখানে দায়িত্বরত নিরাপত্তাপ্রহরী মো. ফোরকান হাওলাদারকে আঁচড় দেয়। পা ঝাড়া দেওয়ার সময় কুকুরটি পানিতে পড়ে গেলে কুমির তাকে ধরে পানির নিচে টেনে নেয়। ফোরকান হাওলাদার দাবি করেন, ভাইরাল ভিডিওতে কেবল এই শেষ মুহূর্তটিই রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল থেকে টিকা নেওয়ার ব্যবস্থাপত্র দেখিয়ে ফোরকান হাওলাদার বলেন, ‘পাগলা কুকুরটা সেদিন কয়েকজনকে কামড়ায়। কুমির আসায় গেস্টদের সরাতে গেলে কুকুরটা আমার পায়েও আঁচড় দেয়। ঝাড়া দিতেই পানিতে পড়ে যায়, কুমির তখন ধরে নেয়।’

দিঘির পাড়ের দোকানি বিনা আক্তার জানান, কুকুরটি তার দোকানের সামনে তিন বছরের একটি শিশুসহ কয়েকজনকে আক্রমণ করে। তিনি বলেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

কুমির সম্পর্কে যা জানা গেছে
দিঘির কুমিরের সঙ্গে সখ্যের কারণে পরিচিত স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসান (তপু) জানান, সম্প্রতি পূর্ণিমার দিন কুমিরটি ডিম দিয়েছে। এ সময় মাদী কুমির স্বাভাবিকভাবেই বেশি আক্রমণাত্মক থাকে। তিনি বলেন, ‘হিংস্র কুমিরের সামনে থেকে কুকুরটাকে টেনে তোলা সাধারণ কারো পক্ষে সম্ভব ছিল না।’

মাজারের খাদেমরা জানান, বর্তমানে দিঘিতে একটিমাত্র কুমির রয়েছে। এটি হজরত খানজাহান (রহ.)-এর সময়কার ঐতিহাসিক কুমির নয়। দিঘির কুমির বিলুপ্তপ্রায় হয়ে পড়লে ২০০৫ সালে ভারত থেকে এনে এই কুমিরটি ছাড়া হয়।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ