পানামাকে গুঁড়িয়ে বিশ্বকাপে টিকে রইল ক্রোয়েশিয়া
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ এল-এর উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে পানামাকে ১-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ে এগিয়ে গেল ক্রোয়েশিয়া। কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল উভয় দলের জন্যই রীতিমতো 'করো অথবা মরো' পরিস্থিতি।
ম্যাচের ৫৪ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা আন্তে বুদিমিরের গোলে ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে যায়। ডানদিক থেকে জোসিপ স্তানিশিচের নিখুঁত ক্রস থেকে বক্সের ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা বুদিমির বলটি জালে জড়িয়ে দেন। এটিই ম্যাচের একমাত্র ও নির্ণায়ক গোল।
প্রথমার্ধ শেষে স্কোর ছিল গোলশূন্য, এবং এই ফলাফল কোনো দলের জন্যই স্বস্তিদায়ক ছিল না। প্রথম ৪৫ মিনিটে পানামাই তুলনামূলকভাবে ভালো খেলে এবং ক্রোয়েশিয়া আক্রমণে স্পষ্টতার অভাব দেখায়। ২৩ মিনিটে মাইকেল আমির মুরিলোর বিপজ্জনক ক্রস থেকে হোসে লুইস রদ্রিগেজ শক্তিশালী হেড করেন, কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক দমিনিক লিভাকোভিচ অসাধারণভাবে বলটি পোস্টে আটকে দেন। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে মার্তিন বাতুরিনা ২৫ গজ দূর থেকে জোরালো শট নেন, কিন্তু পানামার গোলরক্ষক মোস্কেরা বাঁ দিকের পোস্টের পাশে সেটি ঠেলে দেন।
বিরতিতে ক্রোয়েশিয়া জরুরি পরিবর্তন আনে- গভার্দিওল ও মুসাকে তুলে মাঠে নামানো হয় বুদিমির ও ক্রামারিচকে। কোচ জ্লাৎকো দালিচের এই সিদ্ধান্ত ফলপ্রসূ হয় মাত্র ৯ মিনিটের মধ্যেই। গোলের পর পানামা মরিয়া হয়ে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করে। ৬০ মিনিটে পানামার হোসে ফাহার্দো সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে হেড করেন, কিন্তু বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
৬১ মিনিটে পানামার অধিনায়ক ইওয়েল বার্সেনাস লুকা মোদ্রিচের উপর ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন। ৬৮ মিনিটের দিকে লিভাকোভিচ একের পর এক অসাধারণ সেভ করেন। মুরিলোর শট এবং তার রিবাউন্ড একে একে ঠেকানোর পর কর্নার থেকে হার্ভের পয়েন্ট-ব্ল্যাংক হেডও আটকে দেন এই ক্রোয়েশিয়ান গোলরক্ষক। ৮২ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মোদ্রিচ মাঠ ছাড়েন, দর্শকরা দাঁড়িয়ে তাঁকে বিদায় জানান।
প্রথমার্ধে লুকা মোদ্রিচ ও মাতেও কোভাচিচ মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণে রাখেন, তবে দলটি আক্রমণে তেমন কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড়দের অবদানে ছবি বদলায়। গোলরক্ষক লিভাকোভিচ একাই দলকে জয়ের পথে রেখেছেন। অন্যদিকে, থমাস ক্রিশ্চিয়ানসেনের দল ৩-৪-৩ ছকে খেলে উইংব্যাক দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলে এবং কাউন্টার অ্যাটাকে বারবার ক্রোয়েশিয়াকে চাপে ফেলে। মাইকেল মুরিলো ডান দিক থেকে একাধিকবার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেন এবং গভার্দিওলকে কয়েকবার কাটিয়ে যান। তবে শেষ পর্যন্ত গোল করতে ব্যর্থ হয় দলটি।
উভয় দলই প্রথম ম্যাচে পয়েন্টবিহীন ছিল। ক্রোয়েশিয়া ইংল্যান্ডের কাছে ২-৪ গোলে হেরেছিল, আর পানামা শেষ মুহূর্তের গোলে ঘানার কাছে ০-১ গোলে পরাজিত হয়েছিল। এই জয়ে ক্রোয়েশিয়া ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে প্রতিযোগিতায় টিকে রইলো। অন্যদিকে, এক ম্যাচ বাকি থাকতেই পানামার বিদায়ঘণ্টা বেজে গেলো। তাদের শেষ ম্যাচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, যা কার্যত একটি অসম্ভব চ্যালেঞ্জ।
মতামত দিন