সংবাদ সম্মেলন করে ‘ভয়াবহ অভিজ্ঞতা’র বর্ণনা দিলেন ক্রিকেটার নাঈম
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান অভিযোগ করেছেন, চট্টগ্রামে পুলিশ তাকে সিএনজিতে তুলে গলা চেপে ধরে হেনস্তা করেছে। ঘটনাটিকে তিনি ‘ভয়াবহ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেওয়া অভিজ্ঞতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে তিনি ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপও নিয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) বিকালে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট ফরিদাপাড়া এলাকার নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, শুক্রবার রাতে ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ শেষে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামার পর বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের একটি দল তার সিএনজি অটোরিকশা থামায়। এরপরই ঘটনাটি ঘটে।
নাঈম হাসান অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ প্রথমে গাড়ির কাগজপত্র নেয় এবং পরে তাকে সিএনজি থেকে নামিয়ে আনা হয়। এরপর তাকে গলা চেপে ধরা হয় এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
তিনি বলেন, আমি জানতাম না আমার সঙ্গে এমন আচরণ করা হবে। তখন খুব ভয় পেয়েছিলাম।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় সমর্থকদের উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে যায়নি। পরে তাকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কথাবার্তা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নাঈম বলেন, আমি সাদাসিধে জীবনযাপন করি। আমার জিনিসপত্র তল্লাশি করতে চাইলে আমি সহযোগিতা করতাম। কিন্তু কোনো কথা না শুনেই এমন আচরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির ফোনকলের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। পরে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরী। পাশাপাশি পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত সোহেলকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
সিএমপি জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত দিন