কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: মালিককে প্রধান অভিযুক্ত করে মামলা
কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় রিসোর্টের মালিক তানভীর আহমদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। একই মামলায় রিসোর্টটির সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনকেও আসামি করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শনিবার রাতে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে। তবে এ ঘটনায় মোট কতজনকে আসামি করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক সুমনকে আটক করা হয়। পরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আগুন লাগার কারণ এবং এ ঘটনায় কারও অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে মরদেহগুলোর ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর পরিচয় নিশ্চিত করে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত মরদেহগুলো কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন উখিয়া থানার ওসি।
নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য ও তাঁদের নিকটাত্মীয় বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দা মো. আশিকুল ইসলামের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা এবং শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বৃহস্পতিবার টুপটুপ রিসোর্টে বেড়াতে গিয়েছিলেন আশিকুল ইসলাম। সেখানে আগুন লাগার ঘটনায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত হয়। কাঠ দিয়ে তৈরি স্থাপনাটিতে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ শুরু হয়।
উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা অংশ নেন। শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তের মাধ্যমে আগুন লাগার কারণ, সম্ভাব্য অবহেলা এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মতামত দিন