Views Bangladesh Logo

উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: অন্যেরা পারলে আমরা পারছি না কেন?

M A  Khaleque

এম এ খালেক

মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিরাজমান মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সক্ষম হলেও আমরা এ ক্ষেত্রে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছি। কোনোভাবেই উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে কমিয়ে সাধারণ মানুষের সহ্য সীমার মধ্যে নিয়ে আসা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য দৃশ্যত যেসব উদ্যোগ নিয়েছে তার কোনোটিই পরিপূর্ণভাবে সফল হয়নি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তার কোনো কোনোটি ছিল অসম্পূর্ণ। ফলে এসব কার্যক্রম বা পদক্ষেপ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে উসকে দিয়েছে। তারই অনিবার্য প্রভাব আমরা অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ করছি।

গত অক্টোবর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ, যা গত ১১ বছর ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। কিছু দিন আগে একজন মন্ত্রী সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেছিলেন, আল্লাহ্ আমাদের বাঁচিয়েছে। মূল্যস্ফীতি ‘ডাবল ডিজিটে’ উন্নতি হয়নি; কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর আত্মতুষ্টি ইতিমধ্যেই গভীর হতাশায় পরিণত হতে চলেছে। বিষয়টি এ রকম, গত বছর অক্টোবর মাসে যে পণ্য ও সেবা ক্রয় করতে একজন ভোক্তাকে ১০০ টাকা ব্যয় করতে হতো এ বছর অক্টোবর মাসে সেই একই পণ্য ক্রয় করতে তাকে ১০৯ টাকা ৯৩ পয়সা খরচ করতে হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর অক্টোবর মাসে ক্রয় করতে ৯ টাকা ৯৩ পয়সা বেশি খরচ করতে হয়েছে। কোনো পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও ভোক্তার কোনো অসুবিধা হতো না, যদি তার প্রকৃত আয় আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পেতো; কিন্তু আগের বছরের তুলনায় এ বছর অনেক পেশাজীবীর মজুরি তো বাড়েইনি বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমেছে। মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খাদ্য সেক্টর। এই খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেয়া সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক, গত অক্টোবর মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ঘটেছে ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ; কিন্তু তাদের এই পরিসংখ্যান নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মাঝে দ্বিমত রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ঘটেছে আরও বেশি মাত্রায়; কিন্তু সেটা পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

যা হোক আমরা সেই বিতর্কে যেতে চাই না। পরিসংখ্যান ব্যুরো মূল্যস্ফীতির যে উচ্চ প্রবণতার তথ্য প্রকাশ করেছে, তা যে কোনো বিচারেই উদ্বেগজনক। শহর এবং গ্রামে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি অনেকটাই কাছাকাছি অবস্থানে ছিল। গত অক্টোবর মাসে গ্রামে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১২ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আর শহরে এটা ছিল ১২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আগের মাস অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। সাধারণভাবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। আর সেটা যদি হয় খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে তাহলে তো কথাই নেই। কারণ খাদ্য এমনই এক আবশ্যিক উপকরণ, যা ছাড়া মানুষের চলে না। বিত্তবান অথবা বিত্তহীন সবার জন্যই দিনে অন্তত তিনবার খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। অন্য অনেক পণ্য ক্রয় না করলেও চলে কিন্তু খাদ্যপণ্য ক্রয় করতেই হয়। খাদ্যপণ্যের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সব শ্রেণি-পেশার মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের। টিসিবির খাদ্য বিক্রির ট্রাকের সামনে দরিদ্র মানুষের ভিড় দেখলেই বোঝা যায়, তারা কতটা অসহায় অবস্থার মধ্যে পতিত হয়েছেন।

মূল্যস্ফীতি যেসব সময়ই দেশের অর্থনীতির জন্য খারাপ তা নয়। কোনো কোনো সময় সীমিত মূল্যস্ফীতি ভালো বলে বিবেচিত হতে পারে। কোনো কারণে যদি একটি দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিকভাবে কমে যায় অথবা নেতিবাচক পর্যায়ে উপনীত হয়, তাহলে সেটা অর্থনীতির জন্য কোনোভাবেই মঙ্গলজনক নয়। যে কারণে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলে বা নিগেটিভ পর্যায়ে চলে গেছে দেশের কৃষক এবং তৃণমূল পর্যায়ের উৎপাদক শ্রেণি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কারণ তারা তাদের উৎপাদিত পণ্যের উপযুক্ত মূল্য পাবেন না। ফলে পরে তারা সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। তাই একটি নির্দিষ্ট এবং সহনীয় মাত্রায় মূল্যস্ফীতি বিরাজ করা অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক। মূল্যস্ফীতি অনেকটা ব্লাড সুগারের মতো। কোনো কারণে দেহে ব্লাড সুগারের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলে হাইপো আক্রান্ত হয়ে একজন মানুষের মৃত্যু হতে পারে। আবার ব্লাড সুগারের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলেও একজন মানুষ মারা যেতে পারে। তাই ব্লাড সুগারের পরিমাণ সহনীয় মাত্রায় সীমিত রাখতে হয়। অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতিও ঠিক তেমনি। কোনো কারণে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক উচ্চ মাত্রায় চলে গেলে দেশের মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। আবার কখনো মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস অথবা নিগেটিভ মাত্রায় চলে গেলেও তা দেশের অর্থনীতির জন্য অমঙ্গল ডেকে আনতে পারে। তাই মূল্যস্ফীতিকে এমন পর্যায়ে রাখতে হয় যাতে সাধারণ মানুষের কষ্ট সৃষ্টি না হয় আবার উৎপাদন হ্রাস পেয়ে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। একটি দেশের অর্থনীতিতে কত শতাংশ মূল্যস্ফীতি থাকলে তাকে সহনীয় পর্যায় বলা যেতে পারে এ ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট মাত্রা নির্ধারিত নেই।

মূল্যস্ফীতি কত মাত্রায় থাকলে তা সহনীয় বা মানুষের জন্য দুর্ভোগ ডেকে আনবে না, তা নির্ভর করে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বা পারচেজিং পাওয়ারের ওপর। এক হালি ডিম কেনার জন্য আমার যদি ৫০০ টাকা ব্যয় করার মতো সামর্থ্য থাকে তাহলে ডিমের হালি ৫০০ টাকা হলেও কোনো অসুবিধা নেই। আবার ডিমের হালি ১২ টাকা হলেও কোনো লাভ নেই যদি আমার কাছে ডিম ক্রয় করার জন্য ১২ টাকা ব্যয় করার সামর্থ্য না থাকে। অর্থনীতিবিদদের অনেকেই মনে করেন,বাংলাদেশের মতো একটি উদীয়মান অর্থনীতিতে ৪ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি থাকলে তাকে সহনীয় বলা যেতে পারে।

করোনা-উত্তর বিশ্ব অর্থনীতি যখন ঘুরে দাঁড়ানোর পর্যায়ে ছিল, ঠিক তখনই শুরু হয় ইউক্রেন যুদ্ধ। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। প্রোডাকশন সাইড স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ার উপক্রম হবার কারণে প্রতিটি দেশেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়। এই মুহূর্তে বিশ্ব অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা। বাংলাদেশও এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের স্ফীতি কমে যাওয়াটাই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালি অর্থনীতিতেও মূল্যস্ফীতির হার এক পর্যায়ে ৯ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল। এটা ছিল দেশটির বিগত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব আমেরিকা (ফেড) সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি অর্থাৎ ব্যাংক ঋণের প্রবাহ কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব আমেরিকা গত দেড় বছরের মধ্যে তাদের পলিসি রেট (সিডিউল ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণকালে যে সুদ প্রদান করে) অন্তত ১৩ বার বৃদ্ধি করেছে।

বিশ্বের অন্তত ৭৭টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের পলিসি রেট একাধিক বার বৃদ্ধি করেছে। পলিসি রেট বৃদ্ধি উদ্দেশ্য হচ্ছে, এতে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের আগ্রহ কমে যায়। কারণ সিডিউল ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আগের তুলনায় উচ্চ সুদে ঋণ গ্রহণ করলে সেই ঋণ তারা উদ্যোক্তা বা সাধারণ ঋণ গ্রহীতা পর্যায়ে প্রদানের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি সুদ ধার্য করে। এতে সার্বিকভাবে ব্যাংক ঋণের (ব্যাংক উদ্যোক্তা বা সাধারণ ঋণ গ্রহীতাদের ঋণদানকালে যে সুদ চার্জ করে) সুদের হার বৃদ্ধি পায়। সম্ভাব্য ঋণ গ্রহীতারা আগের তুলনায় উচ্চ সুদে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এতে বাজারে অর্থ সরবরাহ কমে যায়। যদিও পলিসি রেট বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে দেশের বিনিয়োগ হ্রাস পাবার আশঙ্কা থাকে; কিন্তু তা সত্ত্বেও বিশ্বের বেশির ভাগ দেশই পলিসি রেট বৃদ্ধির কৌশল প্রয়োগ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এবং তারা এ ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করে। বাংলাদেশ ব্যাংকও গত দেড় বছরের মধ্যে পলিসি রেট ৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে সাড়ে ৬ শতাংশে উন্নীত করেছে; কিন্তু পলিসি রেট বাড়ানো হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক দিন পর্যন্ত ব্যাংক ঋণের ‘আপার ক্যাপ’ ৯ শতাংশে ধরে রাখে। ফলে সিডিউল ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগের তুলনায় বেশি সুদে ঋণ গ্রহণ করলেও সেই অর্থ উদ্যোক্তা বা সাধারণ গ্রহীতাদের মাঝে প্রদান কালে সুদের হার বাড়াতে পারেনি। কারণ তাদের ব্যাংক ঋণের আপার ক্যাপ ৯ শতাংশ মেনে চলতে হয়েছে। এতে বাজারের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এক শ্রেণির উদ্যোক্তা এবং প্রভাবশালী ঋণ গ্রহীতা তুলনামূলক সস্তা বলে ব্যাংক থেকে নানা প্রক্রিয়ায় ঋণ নিয়ে তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছেন। অনেকে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে সেই অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গত বছর আগস্ট মাসে বাস্তবায়নাধীন মুদ্রানীতিতে ব্যক্তি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ দশমিক ১ শতাংশ; কিন্তু বাস্তবে ব্যক্তি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি ঘটে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ; কিন্তু একই সময়ে শিল্পে ব্যবহার্য কাঁচামাল এবং মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি হ্রাস পেয়েছিল ১৪ শতংশ। আর ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি কমেছিল ৭৬ শতাংশ। তাহলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত যে ঋণ ব্যক্তি খাতে দেয়া হলো তা কোথায় গেলো? অনেকেই মনে করছেন, এই ঋণের অর্থ কোনো না কোনোভাবে অভ্যন্তরীণ বাজারে চলে গেছে অথবা বিদেশে পাচার হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদনি ব্যয় কমনোর জন্য নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে; কিন্তু এসব ব্যবস্থার কোনোটিই সত্যিকারার্থে কাজে আসছে না। পণ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিপণন পর্যায়ে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পণ্য মূল্য সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা যাবে না। বাজারে যে রাজনৈতিক প্রভাবিত মধ্যস্বত্ত্ব ভোগে সক্রিয় রয়েছে তাদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মূল্যস্তর সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে না।

ব্যাংক ঋণের সুদের হার নিয়ন্ত্রণে না রেখে একে বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া প্রয়োজন। বাজারই নির্ধারণ করবে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কত হবে। একইভাবে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারও বাজারের ওপর ছেড়ে দিতে হবে। তবে এটা করতে হবে ধীরে ধীরে সহনীয়ভাবে। অন্যথায় আমদানি পণ্যের মূল্য হঠাৎ করেই বেড়ে যাবে। তাতে গণদুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাবে। আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হচ্ছে পণ্য বাজারে সক্রিয় মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করা। উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে মধ্যস্বত্ত্বভোগিদের কোনো সম্পর্শ নেই; কিন্তু লাভের অংশটা তারাই পেয়ে যায়। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কি সত্যিই আন্তরিক? শ্রীলঙ্কার মতো অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত এবং আন্তর্জাতিকভাবে ঋণ খেলাপি দেশের মর্যাদা অর্জনকারি একটি দেশ যদি তাদের মূল্যস্ফীতি মাত্র ৮/৯ মাসের মধ্যে ৪৫ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনাত পারে তাহলে আমরা কেন ব্যর্থ হচ্ছি তার জবাব খুঁজে বের করতে হবে।

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড ও অর্থনীতিবিষয়ক লেখক।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ