জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার সুপারিশ সাংবিধানিক সংস্কার কমিশনের
রাষ্ট্রীয় কার্যাবলিসহ অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছ, জবাবদিহি এবং ভারসাম্য নিশ্চিতে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের সুপারিশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিশন। রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতীয় প্রতিষ্ঠান হবে এটি।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পেশ করা কমিশনের প্রতিবেদন অনুসারে এনসিসিতে সদস্য থাকবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, নিম্ন ও উচ্চকক্ষের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, বিরোধী দল মনোনীত নিম্ন ও উচ্চকক্ষের ডেপুটি স্পিকার। অন্য একজন সদস্য নির্বাচিত হবেন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও তাদের নিজ নিজ দলের সদস্য ছাড়া আইনসভার উভয় কক্ষের সব সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে।
প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, এই ভোট আইনসভার উভয় কক্ষের গঠনের তারিখ থেকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে হবে। জোট সরকারের ক্ষেত্রে কাউন্সিলের ওই শেষ সদস্য প্রধানমন্ত্রীর দল ছাড়া জোট শরিক অন্য দলের ভোটে নির্বাচিত হবেন।
আইনসভা ভেঙে গেলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নতুন প্রধান উপদেষ্টা শপথ না নেয়া পর্যন্ত বিদ্যমান এনসিসি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
আইনসভার অনুপস্থিতিতে এনসিসি’র সদস্যরা হবেন সভাপতি, প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি এবং প্রধান উপদেষ্টা মনোনীত উপদেষ্টা পরিষদের দুই সদস্য।
কমিশন আরও সুপারিশ করেছে যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, অ্যাটর্নি জেনারেল ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কমিশনার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কমিশনার, প্রধান স্থানীয় সরকার কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনার, সংজ্ঞায়িত বাহিনী প্রধান এবং আইন দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোনো পদে নিয়োগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেবে এনসিসি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে