কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে সংসদে সর্বসম্মত শোক প্রস্তাব গৃহীত
কাতারের সাবেক আমির এবং আধুনিক কাতারের স্থপতি হিসেবে পরিচিত শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম শোক প্রস্তাব উত্থাপন করলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
শোক প্রস্তাবে বলা হয়, গত ১২ জুলাই ৭৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি। তিনি ছিলেন সমসাময়িক বিশ্বের অন্যতম দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। তার নেতৃত্বে কাতার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, অবকাঠামো, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এ কারণেই তিনি বিশ্বজুড়ে ‘আধুনিক কাতারের স্থপতি’ হিসেবে স্বীকৃতি পান।
চিফ হুইপ বলেন, শেখ হামাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও কাতারের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের পারস্পরিক উন্নয়নে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সময় কাতার নিজ দেশে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করলেও বাংলাদেশি শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালী সংকটের সময় বাংলাদেশি নাবিকদের প্রতিও মানবিক সহায়তা দিয়েছে দেশটি। এ জন্য বাংলাদেশ কাতারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।
শোক প্রস্তাবে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, কাতারের রাজপরিবার, সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
এ সময় চিফ হুইপ দেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সুপারিশ করেন। পাশাপাশি শোক প্রস্তাবের একটি প্রত্যায়িত অনুলিপি কাতারের জাতীয় পরিষদ (শূরা কাউন্সিল), বাংলাদেশে কাতার দূতাবাস এবং কাতার সরকারের কাছে পাঠানোর প্রস্তাবও দেন।
শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন।
মতামত দিন