ভেড়ামারায় নির্যাতনের শিকার শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নির্যাতনের শিকার ১০ বছরের মাদ্রাসা শিক্ষার্থী শিশুটির অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল(রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) কর্তব্যরত চিকিৎসক।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, শিশুর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে গাইনী বিভাগে স্থানাস্তর করা হবে। তবে, তার অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন।
নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষারত শিশুটির বাবা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, 'আমার মেয়ে এখনও আইসিইউ আছে, সেখানে আমাদের যেতে দিচ্ছে না। মেয়ের শারীরিক অবস্থা আগের মতোই সংকটাপন্ন। আজ কথা বলা একদম বন্ধ করে দিয়েছে।'
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর বিশ্বাস জানান, আজ সকালে তাকে আইসিইউ থেকে বের করে ওসিসিতে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাকে আবারও আইসিউতে নেওয়া হয়।'
তিনি বলেন, 'শিশুটি ট্রমার মধ্যে আছে। কথা বলতে পারছে না। মুখে কিছু খাচ্ছে না। শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন। তার শরীরে নির্যাতনের অনেক চিহ্ন রয়েছে।'
পরিবারের অভিযোগ, শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সোমবার সকালে সংকটাপন্ন অবস্থায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার একটি মাদ্রাসার ওই শিশুশিক্ষার্থীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সোমবারই শিশুটিকে আইসিইউতে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মায়ের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভেড়ামারা থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং মাদ্রাসার পরিচালক সাইদুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ ।
ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনজনকে আসামি করে ভেড়ামারা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিরা হলেন, সাইদুল রহমান (৫০), শামিমা খাতুন (৪২) ও রিশা খাতুন (২০)।
পুলিশ জানায়, শিশুটি ৮ মাস আগে ওই মহিলা মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। সে সহপাঠীদের সঙ্গে সেখানে থাকত। গত রোববার মাদ্রাসা ছুটি হওয়ায় শিশুটির মা তাকে বাড়ি নিয়ে যেতে আসেন। এ সময় অভিযুক্ত সুপারের স্ত্রী তাকে জানান, শিশুটির জ্বর এসেছে। পরে শিশুটিকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে ডাক্তাররা তাকে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে