মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ, জরুরি পদক্ষেপ দাবি
কুষ্টিয়ায় একটি মাদ্রাসায় ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। একই সঙ্গে শিশুদের ওপর সহিংসতা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমজেএফ জানায়, শিশুদের প্রতি সহিংসতা শুধু ব্যক্তিগত পরিসরেই নয়, জনসমাগমস্থল ও মাদ্রাসার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ঘটছে। কুষ্টিয়ার এই ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত নজরদারি ও জবাবদিহির ঘাটতিকে আবারও সামনে এনেছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে শিশুদের প্রতি সহিংসতার ৭১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮ জন কন্যাশিশু ও দুইজন ছেলেশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এছাড়া ১৪ জন কন্যাশিশুর ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাও রয়েছে। ২০২৫ সালে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মোট ১ হাজার ২৪টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়।
এমজেএফ দ্রুত, কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, সংসদে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন নিশ্চিত করতে হবে।
সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ভয় ও নীরবতার কারণে মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা অনেক সময় প্রকাশ পায় না। গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলে এসব বিষয় সামনে আসে না।
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নিজেদের লুকিয়ে রাখে এবং শিশুরা কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার নির্যাতিত শিশুটি বর্তমানে জীবন রক্ষার লড়াই করছে বলেও জানান তিনি।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ওই মাদ্রাসার প্রধানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে শুধু গ্রেফতার করলেই এ ধরনের সহিংসতা বন্ধ হবে না। প্রয়োজন আইনের কঠোর প্রয়োগ, নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি।
শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব—তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দায়িত্ব পালনে বড় ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে