Views Bangladesh Logo

একচেটিয়া আধিপত্যে ঘানাকে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া

Sports Desk

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর শেষ লড়াইয়ে একতরফা আধিপত্য দেখিয়ে ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বল দখল, আক্রমণ ও সুযোগ তৈরিতে স্পষ্ট প্রাধান্য দেখায় লাতিন আমেরিকার দলটি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে রাউন্ড অব ৩২-এর সব ম্যাচের ইতি ঘটল এবং নিশ্চিত হয়ে গেল শেষ ষোলোর সম্পূর্ণ ১৬ দলের তালিকা।

ম্যাচের ১৪তম মিনিটেই এগিয়ে যায় কলম্বিয়া। মূল পরিকল্পনায় না থাকলেও চোটের কারণে শুরুর একাদশ থেকে তুলে নিতে হয় স্ট্রাইকার ঝন কর্দোবাকে, তার বদলে জরুরি ভিত্তিতে মাঠে নামানো হয় লুইস সুয়ারেজকে। মাঠে নেমেই প্রভাব রাখেন এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড; ডান প্রান্ত দিয়ে বাড়ানো তার নিখুঁত ক্রসে ঘানার ডিফেন্ডার আলিদু সেইদু মুহূর্তের জন্য মনোযোগ হারালে সম্পূর্ণ ফাঁকায় বল পেয়ে যান জন আরিয়াস। সহজ ফিনিশে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

প্রথমার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর আরও সুযোগ তৈরি করেছিল কলম্বিয়া। গুস্তাভো পুয়ের্তা ও লুইস দিয়াসের প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় আর দানিয়েল মোহিকার একটি প্রচেষ্টা দুর্দান্তভাবে রুখে দেন ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স আতি জিগি। এই একমাত্র গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছন্দে খেলা চালিয়ে যান লুইস দিয়াস। ঘণ্টাখানেকের আগে তার দুটি প্রচেষ্টার একটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয় এবং অন্যটিতে গোলরক্ষকের সঙ্গে একক লড়াইয়ে সুযোগ নষ্ট করেন তিনি, ফলে ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি কলম্বিয়া। তবে সেই ব্যবধানই যথেষ্ট প্রমাণিত হয়, কারণ পুরো ৯০ মিনিটে লক্ষ্যে একটি শটও নিতে পারেনি ঘানা।

পুরো ম্যাচে বল দখলে স্পষ্ট আধিপত্য দেখায় কলম্বিয়া; তাদের বল দখল ছিল ৬১ শতাংশ, বিপরীতে ঘানার মাত্র ৩৯ শতাংশ। পাসিংয়েও বিশাল ব্যবধান দেখা যায় কলম্বিয়া। ৯১ শতাংশ নির্ভুলতায় খেলে মোট ৫৩২টি পাস, যেখানে ঘানার পাসের সংখ্যা ছিল ৩১৩টি এবং নির্ভুলতা ৮৩ শতাংশ। শট নেওয়ার পরিসংখ্যানে ব্যবধানটা আরও বিশাল; কলম্বিয়া লক্ষ্যে রেখেছে ৮টি শট (৪০ শতাংশ নির্ভুলতা), বিপরীতে ঘানা পুরো ম্যাচে লক্ষ্যে রাখতে পারেনি একটি শটও। প্রত্যাশিত গোলের (এক্সজি) হিসাবেও বিশাল ফারাক; কলম্বিয়ার ২.১৮, ঘানার মাত্র ০.২৬।

বড় সুযোগ তৈরিতেও একচেটিয়া আধিপত্য দেখায় কলম্বিয়া। ৫টি বড় সুযোগ তৈরি করলেও তার মধ্যে ৪টিই নষ্ট করে তারা, অন্যদিকে ঘানা কোনো বড় সুযোগই তৈরি করতে পারেনি। গোলরক্ষকদের পারফরম্যান্সেও এর প্রতিফলন স্পষ্ট; ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স আতি জিগি করেছেন ৭টি সেভ, বিপরীতে কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাসকে ম্যাচে একবারও বল ঠেকাতে হয়নি। কারণ প্রতিপক্ষ কোনো শটই লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। আক্রমণে সবচেয়ে সক্রিয় ছিলেন ঘানার অঁতোয়ান সেমেনিও, একাধিকবার প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত তা কাজে আসেনি।

ফাউলের সংখ্যায় কলম্বিয়া করেছে ১৪টি, ঘানা ১০টি। ম্যাচে একমাত্র হলুদ কার্ডটি দেখেন কলম্বিয়ার জন আরিয়াস, একটি ফাউলের জন্য তাকে বুকিং দেন ফরাসি রেফারি ক্লেমঁ তুরপাঁ। ম্যাচে কোনো লাল কার্ড দেখানো হয়নি এবং কোনো পেনাল্টি কিকও দেওয়া হয়নি কোনো দলকে।

ম্যাচের শুরুতেই বাধ্যতামূলক পরিবর্তন আনতে হয় কলম্বিয়াকে। চোটের কারণে জন কর্দোবাকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয় লুইস সুয়ারেজকে, যিনি নেমেই আরিয়াসের গোলে সহায়তা করেন। ম্যাচের মাঝপথে ঘানার মারভিন সেনায়া চোট পেলে সাময়িক বিরতির প্রয়োজন হয়। শেষদিকে ৯০তম মিনিটে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন আনেন কলম্বিয়ার কোচ নেস্তর লরেঞ্জো। ম্যাচজুড়ে সবচেয়ে সক্রিয় থাকা লুইস দিয়াসকে তুলে মাঠে নামান হামিন্তন কাম্পাসকে, লিড ধরে রাখতে যা কিছুটা বিতর্কের জন্ম দেয় গ্যালারিতে।

গ্রুপ কে-তে অপরাজিত থেকে শীর্ষে থেকে নকআউটে আসা কলম্বিয়া এই জয়ে প্রমাণ করল, কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকা তাদের শক্তি মাঠেও যথার্থ প্রতিফলিত হয়েছে। অন্যদিকে কার্লোস কুইরোজের রক্ষণভিত্তিক পরিকল্পনা কার্যকর প্রমাণিত না হওয়ায় দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিপক্ষের কাছেই ফের বিশ্বকাপ যাত্রা থামল আফ্রিকার দল ঘানার। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ হলো বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর সব লড়াই, নিশ্চিত হলো শেষ ষোলোর সম্পূর্ণ ১৬ দল।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ