দুর্ঘটনা নাকি ধর্ষণের পর হত্যা, কলেজছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শ্রুতি পাল (২১) নামের এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য তৈরি হয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেলেও নিহতের পরিবার ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ তুলেছে। ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো অপরাধ, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত করছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ে এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনার আভাসই পাওয়া গেছে।
নিহত শ্রুতি পাল চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের খাসখামা গ্রামের হোমিও চিকিৎসক টিটু পালের মেয়ে। তিনি ফেনী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত রোববার (৭ জুন) দুপুরে শ্রুতি তার মাকে ফোন করে টিউশনিতে যাওয়ার কথা বলেন। এরপর তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে অজ্ঞাত এক নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়, মিরসরাইয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শ্রুতি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। স্বজনেরা সেখানে গিয়ে তাঁর মরদেহ দেখতে পান।
প্রত্যক্ষদর্শী মিনহাজ জানান, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তর বাইপাস এলাকায় পেছন থেকে একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেলটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়ক বিভাজকে আছড়ে পড়েন শ্রুতি। মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শুভও জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল এবং শ্রুতির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চমেকে রেফার করা হয়।
চমেক হাসপাতালে মরদেহ নিয়ে আসা মো. তানভির (২৭) ও তার সহযোগী আশরাফ উদ্দিন (২৫)-কে আটক করে পুলিশ। নিহতের বাবা টিটু পাল বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মিরসরাই থানায় মামলা দায়ের করলে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলায় আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, শ্রুতির শরীরে সড়ক দুর্ঘটনার মতো ক্ষতচিহ্ন ছিল না, অথচ যৌনাঙ্গে মারাত্মক ক্ষতবিক্ষত চিহ্ন ও পেটে আঘাতের দাগ পাওয়া গেছে। যে মোটরসাইকেলে দুর্ঘটনা হয়েছে বলা হচ্ছে, সেটিতেও কোনো স্ক্র্যাচ নেই। তানভিরের শরীরেও আঘাতের সামান্য চিহ্ন ছিল না বলে অভিযোগ পরিবারের। বাবা টিটু পাল বলেন, 'তানভির ও তার বন্ধুরা মিলে আমার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়েছে।'
মিরসরাই থানার ওসি ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ এসপি নাদিম হায়দার জানান, আটজনের একটি গ্রুপ মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে যাওয়ার পথে ইউটার্ন এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রাপথের সব সিসিটিভি ক্যামেরা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

মতামত দিন