বলের পেছনে দৌড়ানো নয়, বল দখলে রেখে খেলতে চান কোচ থমাস ডুলি
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ থমাস ডুলি তার ফুটবল দর্শন তুলে ধরেছেন। তিনি চান, তার খেলোয়াড়রা বলের পেছনে দৌড়ানোর পরিবর্তে যেন বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
এই মাসের শুরুতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়া ডুলি শনিবার (৩০ মে) অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথমবার কথা বলেন। রোববার রাতে দলটি সান মারিনোর উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই জাতীয় ফুটবলার ও বুন্দেসলিগা তারকা জানান, তার পছন্দের খেলার ধরন হলো পজেশন-ভিত্তিক ও পজিশনাল ফুটবল।
তিনি বলেন, আমি খেলোয়াড়দের স্পষ্ট করে বলেছি যে আমি ফুটবল খেলতে চাই। আমার দর্শনের মূল ভিত্তি হলো আমরা বলের পেছনে ছুটব না। বরং আমরা বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করব। আমি ৪-২-৩-১ ফরমেশনে পজিশনাল ফুটবল খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
তিনি আরও বলেন, এই পদ্ধতি কার্যকর করতে হলে পাসিং ও বল গ্রহণের মতো মৌলিক দক্ষতায় পারদর্শী হওয়া অত্যন্ত জরুরি। এটা সফল করতে আমাদের পাসিং ও রিসিভিং প্রায় নিখুঁত হতে হবে। প্রত্যেক খেলোয়াড়কে পুরোপুরি মনোযোগী থাকতে হবে এবং মাঠে নিজের ভূমিকা বুঝতে হবে।
আধুনিক ফুটবলে সমন্বিত প্রেসিংয়ের গুরুত্বও তুলে ধরেন কোচ ডুলি। তার মতে, সিস্টেম কার্যকর করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, আধুনিক ফুটবলে প্রেসিং পুরো দলকে মিলেই করতে হয়। একজন মিডফিল্ডারও যদি ঠিকভাবে প্রেস না করে, পুরো পরিকল্পনা ভেঙে যেতে পারে। খেলোয়াড়দের এই ধারণা বুঝতে ও আত্মস্থ করতে হবে।
আমেরিকান এই কোচ জানান, খেলোয়াড়দের ভুল বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ উন্নত করতে তিনি ভিডিও অ্যানালাইসিস ব্যবহার করছেন।
তিনি ব্যাখা করে বলেন, আমরা অনুশীলন ভিডিও করি এবং পরে স্ক্রিনে খেলোয়াড়দের দেখাই। কোন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত ছিল, তা আমরা দেখাই। বারবার এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা আশা করি তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো ও আত্মবিশ্বাসী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি দলের সম্ভাবনা দেখেছেন এবং বিশ্বাস করেন তার পদ্ধতি খেলোয়াড়দের উন্নত করতে সাহায্য করবে। আমি বিভিন্ন বিভাগে চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছি, বিশ্বকাপে খেলেছি এবং অনেক সম্মান পেয়েছি। অবসরের পর আমি আমার অভিজ্ঞতা ভাগ করতে চেয়েছি। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো দেখে মনে হয়েছে, আমি যা শেখাই- এই দলের জন্য সেটাই প্রয়োজন। আমি তাদের সফল হতে সাহায্য করতে চাই।
বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া জানান, খেলোয়াড়রা নতুন কোচের কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং ইতোমধ্যে তার সঙ্গে একাধিক আলোচনা হয়েছে। তিনি খুব পরিশ্রম করছেন। আমাদের মিটিং হচ্ছে, একান্ত আলোচনা হচ্ছে, বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। নতুন কোচ মানে নতুন ধারণা, আমরা সেটি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।
অধিনায়ক আরও জানান, ডুলি বিশেষভাবে দলের রক্ষণভাগের সংগঠন উন্নত করা এবং অপ্রয়োজনীয় ভুল কমানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখিয়েছেন আমরা কীভাবে গোল খাচ্ছি। তিনি সহজ ভুলে গোল খেতে পছন্দ করেন না। তিনি আমাদের পাসিং ও প্রেসিং উন্নত করতে চান। যেহেতু তিনি নিজে একজন ডিফেন্ডার ছিলেন, তাই ডিফেন্ডারদের জন্য তার অভিজ্ঞতা খুবই সহায়ক।
ডুলির অধীনে বাংলাদেশ দল তাদের প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে এবং আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নেবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে