সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা ৮৭ বছর বয়সী টেড টার্নারের জীবনাবসান
বিশ্বে প্রথম ২৪ ঘণ্টার সংবাদ সম্প্রচারের পথিকৃৎ এবং প্রখ্যাত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব টেড টার্নার মারা গেছেন।
বুধবার (৬ মে) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় নিজ বাসভবনে ৮৭ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। টার্নার এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মৃত্যুর সময় পরিবারের সদস্যরা তার পাশে ছিলেন।
টেডের মৃত্যুতে সিএনএন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের প্রধান নির্বাহী মার্ক থম্পসন তাকে "নির্ভীক ও দূরদর্শী নেতা" হিসেবে স্মরণ করে বলেছেন, "তিনি সর্বদা সিএনএনের প্রিজাইডিং স্পিরিট বা নিয়ন্ত্রক আত্মা হয়ে থাকবেন।
টেলিভিশন খবরের দুনিয়ায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কারিগর ছিলেন এই ওহাইওতে জন্ম নেওয়া এই মিডিয়া সম্রাট। ১৯৮০ সালের ১ জুন তিনি বিশ্বের প্রথম ২৪ ঘণ্টার নিউজ চ্যানেল হিসেবে সিএনএন বা ক্যাবল নিউজ নেটওয়ার্ক চালু করেন। শুরুতে অনেকে তার এই পরিকল্পনাকে অসম্ভব বলে উড়িয়ে দিলেও খুব দ্রুতই সিএনএন বিশ্ববাসীর কাছে খবরের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়। বিশেষ করে ১৯৯১ সালের পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধ সরাসরি সম্প্রচার করে তার নেটওয়ার্ক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়ায়। একই বছর তিনি টাইম ম্যাগাজিনের ‘ম্যান অফ দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন।
‘মাউথ অফ দ্য সাউথ’ নামে পরিচিত টার্নার ব্যক্তিজীবনে ছিলেন অত্যন্ত স্পষ্টভাষী। বাবার মৃত্যুর পর মাত্র ২৪ বছর বয়সে পারিবারিক বিলবোর্ড ব্যবসার হাল ধরে তিনি তার সাম্রাজ্যে রাজত্ব শুরু করেন।
তার মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, সহকর্মী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প টেড টার্নারকে "সর্বকালের অন্যতম সেরা"এবং "সম্প্রচার ইতিহাসের অন্যতম সেরা" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি টার্নারকে তার বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে টেড টার্নার জানান যে তিনি ‘লিউই বডি ডিমেনশিয়া’ নামে এক জটিল মস্তিষ্কের রোগে ভুগছেন। জীবনের শেষ দিনগুলো তিনি অসুস্থতার সাথে লড়াই করেই কাটিয়েছেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে