মেহেরপুর হাসপাতালে জামায়াত এমপি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতাহাতি
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে জামায়াতের সংসদ সদস্য ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ সময় হাসপাতালের কিছু অংশে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় এবং রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির তাহাজ উদ্দিন খানের সঙ্গে কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা ও পরে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালের তৃতীয় তলায় আউটসোর্সিং কর্মীদের পরিচয়পত্র ও নিয়োগের বিষয়ে জানতে চান সংসদ সদস্য। এ নিয়ে এক কর্মীর সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা হাসপাতালে এলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ছাত্রদলের এক কর্মীকে চড় মারলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশের কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সংসদ সদস্য তাহাজ উদ্দিন খানকে নিরাপদে উদ্ধার করে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পৌঁছে দিয়েছে।
ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদ সদস্য হাসপাতাল ছেড়ে মেহেরপুর ওজোপাডিকো চত্বরে অবস্থান নেন। এদিকে খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে জামায়াতবিরোধী স্লোগান দেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন অভিযোগ করেন, হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মীদের নিয়োগ নিয়ে সংসদ সদস্য প্রশ্ন তোলায় এক ছাত্রদল কর্মী তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। পরে দেহরক্ষী ওই কর্মীকে চড় দিলে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে সংসদ সদস্যকে অবরুদ্ধ ও হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য তার লোকজন নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত আউটসোর্সিং কর্মীদের পরিচয়পত্র দেখতে চান এবং তাদের অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত বলে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
তার দাবি, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তিনি হাসপাতালে গিয়ে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে সংসদ সদস্য হাসপাতাল ছেড়ে পাশের বিদ্যুৎ অফিসে আশ্রয় নেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
মতামত দিন