মেসেঞ্জারের বাকবিতণ্ডা থেকে বাকৃবিতে দুই হলের সংঘর্ষ, আহত ৫
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মেসেঞ্জার গ্রুপে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা শেষ পর্যন্ত ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপে গড়ায়। এতে অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাওলানা ভাসানী হল ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রথম বর্ষের (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তর্কের সূত্রপাত হয়। পরে সেটি অঞ্চলভিত্তিক আধিপত্যের বিতর্কে রূপ নেয়। একপর্যায়ে দুই হলের শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি অবস্থান নিলে উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আমিনুল মতিন জানান, সংঘর্ষে আহত পাঁচ শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাওলানা ভাসানী হলের এক শিক্ষার্থী জানান, মেসেঞ্জার গ্রুপে কথাকাটাকাটির পর বগুড়া ও জামালপুর জেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে দিতে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।
অন্যদিকে, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে তাদের হলের সামনে এসে উস্কানিমূলক স্লোগান দেয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা বলেন, সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন সংঘর্ষ অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। যারা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি বলেন, সংঘর্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং হলের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিবরণসহ লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক। পুরো বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ শামসুল হক হল ও আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই ধরনের দুটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মতামত দিন