সৌদিতে ড্রাইভিং ভিসার নামে প্রলোভন: মানবপাচার চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় মাসে আড়াই হাজার রিয়াল বেতনে চাকরির লোভনীয় সুযোগ দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রাজধানীর বনানীর সৈনিক ক্লাব এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. শামীম (৪০), মো. রুহুল আমিন (২৪), মো. হৃদয় হাসান (২৬), আবু রায়হান (২৯) ও মো. সানি মিয়া (২৫)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৫১টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, তিনটি স্মার্টফোন এবং একাধিক রেজিস্টার খাতা জব্দ করা হয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, অনলাইন বিজ্ঞাপনে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় মাসে ২ হাজার ৫০০ রিয়াল বেতনে চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তার কথা বলা হয়। বিজ্ঞাপনে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে এক ভুক্তভোগীকে বনানীর সৈনিক ক্লাব এলাকার একটি অফিসে যেতে বলা হয়। সেখানে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে তার সঙ্গে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ব্যাংক ও নগদে ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
তবে চুক্তি অনুযায়ী ড্রাইভিং ভিসা না দিয়ে ওই ব্যক্তিকে একটি ট্যুরিস্ট ভিসা থরিয়ে দেওয়া হয়। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্তে নেমে সিআইডি জানতে পারে, চক্রটি একইভাবে বিদেশে পাঠানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আরও একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চক্রটির সদস্যরা চটকদার অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বেকার যুবকদের আকৃষ্ট করত এবং বিদেশে পাঠানোর নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের পাসপোর্ট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখত।
সিআইডি জানিয়েছে, এই সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্য, পলাতক আসামি এবং দেশি-বিদেশি সহযোগীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা ও পাসপোর্ট না সমর্পণের জন্য সর্বসাধারণকে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
মতামত দিন