৯ ঘণ্টা পর মাজারের দিঘি থেকে কুমিরের টেনে নেওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘি থেকে কুমিরের টেনে নেওয়া শিশু ফাতেমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৯ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (২ জুন) ভোররাত ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিস ও মাজারের খাদেমরা দিঘির ঘাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার ভোররাত ৪টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে নারীদের ঘাটে মরদেহটি রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সাথে আলোচনা করে দাফন করা হবে।
নিহত ফাতেমা মাজার এলাকায় অবস্থান করা এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর সন্তান বলে জানা গেছে। তবে তার পরিবারের বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফাতেমা ও তার মা বেশ কয়েক দিন ধরে মাজার এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজারের পূর্ব পাশের নারীঘাটে গোসল করতে নামে ফাতেমা। এ সময় একটি কুমির হঠাৎ তাকে আক্রমণ করে পানিতে টেনে নিয়ে যায়। ফাতেমার চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাৎক্ষণিক নৌকা নিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় দোকানি বীণা বেগম বলেন, ‘মাজারে থাকা মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে ফাতেমা তার কাছে থাকত। রাতে চোখের সামনে থেকেই শিশুটিকে কুমির টেনে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা ছুটে এসেও তাকে রক্ষা করতে পারেনি। টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় শিশু ফাতেমা বারবার হাত উঁচু করে বাঁচার চেষ্টা করছিল।’
তিনি জানান, শিশুটির শরীরে কুমিরের কামড়ের একাধিক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও এখানে একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিন বছর আগে এক কিশোর এবং এক দশকেরও বেশি সময় আগে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারী একইভাবে কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন।
এই জনপ্রিয় ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্রে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন সাংবাদিকদের জানান, মাজারে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে