সাভারে শিশুকে নির্যাতন করে চোখে ‘সুপার গ্লু’ লাগিয়ে যান বোন-জামাই!
ঢাকার সাভারে সাত বছরের এক শিশুকে নৃশংস নির্যাতনের পর দুই চোখে ‘সুপার গ্লু’ লাগিয়ে ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বোন জামাইয়ের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার সকালে সাভারের বংশী নদীর তীরবর্তী একটি পার্কের পাশে পথচারীরা শিশুটিকে ছটফট করতে দেখে উদ্ধার করেন। এ সময় সে চিৎকার করে বলছিল, ‘আমাকে বাঁচান, আমি কিছু দেখতে পারছি না।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটির শরীরজুড়ে মারধরের চিহ্ন ছিল এবং তার দুই চোখের পাতা আঠা দিয়ে আটকে দেওয়া ছিল। চোখ থেকে রক্ত ও পানি ঝরছিল।
পথচারী শিরিনা আক্তার বলেন, শিশুটির আর্তনাদ শুনে তিনি এগিয়ে যান এবং অন্যদের সহযোগিতায় তাকে দ্রুত সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির অবস্থা গুরুতর। চোখে রাসায়নিক আঠা লাগানোর কারণে তার দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আহত শিশুটি হাসপাতালে জানায়, তার বোন জামাই রাজ্জাক তাকে বেড়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে মারধর করে এবং একপর্যায়ে চোখে আঠা লাগিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
শিশুটির পরিবার জানায়, সে সাভার পৌর এলাকার ভাগলপুর মহল্লায় মা ও সৎ বাবার সঙ্গে বসবাস করে। তার সৎ বাবা নাজিমুদ্দিন বলেন, কয়েক মাস আগে তিনি শিশুটির মাকে বিয়ে করেছেন এবং শিশুটিকে নিজের সন্তানের মতোই লালন-পালন করছেন।
শিশুটির মা সাহিদা বেগম অভিযোগ করেন, তার মেয়ের স্বামী রাজ্জাকই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি গার্মেন্টসে চাকরি করায় সারাদিন বাড়ির বাইরে থাকেন, সেই সুযোগেই শিশুটিকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুস্তাকিম বিল্লাহ জানান, ঘটনাটি ধামরাই থানার এলাকায় ঘটেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযুক্ত রাজ্জাক ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে