মানিকগঞ্জে মাদ্রাসাশিক্ষকের বেত্রাঘাতে শিশুর হাতের হাড় ফাটার অভিযোগ
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার চরতিল্লি দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সহকারী শিক্ষকের বেত্রাঘাতে সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর বাম হাতের কনুইয়ের হাড় ফেটে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে কান্না থামাতে শিশুটির মুখে কলম গুঁজে রাখার অভিযোগও করেছে তার পরিবার।
ঘটনাটি গত ১১ জুলাই সকালে ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে সাটুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন শিশুটির বাবা।
শিশুটির বাবা জানান, ঘটনার দিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে ছেলে কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে আসে এবং জানায়, সে আর কখনও মাদ্রাসায় যাবে না। পরে তার বাম হাত ফুলে যাওয়া, রক্ত জমাট বাঁধার চিহ্ন এবং পিঠে বেতের আঘাতের দাগ দেখতে পান। এরপর মানিকগঞ্জ শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্স-রে করালে চিকিৎসক জানান, শিশুটির বাম হাতের কনুইয়ের ওপরের হাড় ফেটে গেছে।
ভুক্তভোগী শিশুর অভিযোগ, পড়া ঠিকমতো না পারায় সহকারী শিক্ষক মোটা বেত দিয়ে প্রথমে পিঠে, পরে হাতে আঘাত করেন। পরে গালে থাপ্পড় মারেন। ব্যথায় কাঁদতে থাকলে তার মুখে একটি কলম গুঁজে দিয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট ধরে রাখতে বাধ্য করা হয়। কলম পড়ে গেলে আবারও মারধরের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তার।
এ ঘটনার পর শিশুটি মানসিকভাবেও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তার বাবা। তার ভাষ্য, ‘এখন ছেলে মাদ্রাসার নাম শুনলেই ভয় পায় এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম শুনলেও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।’
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীটি পড়ার সময় অমনোযোগী থাকায় তিনি বেত দিয়ে দুটি আঘাত করেছিলেন। তবে তখন তিনি বুঝতে পারেননি যে শিশুটির হাতের হাড় ফেটে গেছে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন এবং অধ্যক্ষকে জানিয়েছেন।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুকও ঘটনাটিকে অন্যায় উল্লেখ করে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের দোষ স্বীকার করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা করার জন্য থানায় আসতে বলা হয়েছে। তারা এলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত দিন