Views Bangladesh Logo

সিলেটের আদালত চত্বরে শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামিকে ফের গণপিটুনি

সিলেটের আদালত চত্বরে আবারও হামলার শিকার হয়েছেন চার বছরের  শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন। কারাগার থেকে হাজিরার জন্য আদালতে আনার পর একদল ব্যক্তি তাকে মারধর করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে একই দিনে আদালত প্রাঙ্গণে জাকিরের ওপর আরেক দফা হামলার ঘটনাও ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে জাকিরকে আদালতে আনা হয়। আদালত চত্বরে আগে থেকেই নিহত শিশুর  স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। প্রিজন ভ্যান থেকে আদালত ভবনের দিকে নেওয়ার সময় জাকিরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে আদালতের ভেতরে নিয়ে যান।

তবে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিহত শিশুর এক চাচা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ভূমিকা নিয়ে তারা ক্ষুব্ধ। তার অভিযোগ, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আসামিপক্ষের অনুকূলে অবস্থান নেওয়ায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম বলেন, পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই জাকিরকে আদালতে আনা-নেওয়া করা হয়েছিল। এরপরও কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চার বছরের  শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন একই গ্রামের বাসিন্দা এবং সম্পর্কে শিশুটির চাচা। গত ৬ মে শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর গ্রামের একটি ডোবার পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে ১১ মে জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অভিযোগপত্রে জাকিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর জাকির পুলিশের কাছে এবং পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেও সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন, ওই জবানবন্দি তার কাছ থেকে জোরপূর্বক নেওয়া হয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ