Views Bangladesh Logo

শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবার ‘বাল্যবিবাহ’, আইন কী বলছে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবাকে ঘিরে আবারও নতুন গুঞ্জন ছড়িয়েছে—তিনি বিয়ে করেছেন কি না, তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কিছুদিন আগে ধর্মীয় জীবন বেছে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে শোবিজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানান লুবাবা। সে সময় তার মা জাহিদা ইসলামও জানান, মেয়ের জীবনধারায় পরিবর্তন এসেছে এবং তিনি ধর্মীয় পথে চলতে আগ্রহী।

সম্প্রতি লুবাবার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওমরা পালনের কিছু ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা হয়। এর পর একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। দুটি আত্মা, এক কিবলা। দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন।’

এই পোস্টকে ঘিরেই বিয়ের গুঞ্জন শুরু হয়। এরপর অভিনেত্রী বর্ষার একটি মন্তব্য—যেখানে তিনি শুভকামনা জানিয়ে ‘বিবাহিত জীবন সুখের হোক’ লিখেছেন—বিষয়টিকে আরও জোরালো করে তোলে।

তবে এখনো লুবাবা বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিয়ের খবরটি নিশ্চিত নয় বলেই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে দাবি করছেন, লুবাবার বয়স কম হওয়ায় এটি বাল্যবিবাহের আওতায় পড়তে পারে। এ নিয়ে আইনজীবীদের মতামতও সামনে এসেছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজমীর সুমী বলেন, বাংলাদেশের আইনে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছর। এর নিচে বিয়ে হলে তা বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হবে এবং আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

তিনি আরও জানান, ১৮ বছরের নিচে কারও বিয়ে কাজি নিবন্ধন করতে পারেন না। যদি করেন, তবে তার লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ নিবন্ধন করলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হয়।

দেশের বাইরে বিয়ে করলেও তা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বৈধ হবে না বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন বিয়ে আইনগতভাবে ‘লিভ টুগেদার’ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

আইনজীবী আরও জানান, বয়স গোপন করা হলে জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাগত নথিপত্র যাচাই করা হয়। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আদালত ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে।

আইনে বাল্যবিবাহ নিরোধ, নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের শাস্তি এবং মিথ্যা অভিযোগের জন্য আলাদা শাস্তির বিধানও রয়েছে। এর মধ্যে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান উল্লেখযোগ্য।


সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকার নেত্রী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, ‘যদি সিমরিন লুবাবার বয়স সত্যিই ১৮ বছরের নিচে হয়ে থাকে, তাহলে এই বিয়ে বাংলাদেশের আইনে বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হবে। ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭’ অনুযায়ী, কন্যার ন্যূনতম বিয়ের বয়স ১৮ বছর এবং এর ব্যত্যয় ঘটলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই আইনে বাল্যবিবাহ সম্পাদন, সহায়তা করা বা উৎসাহ দেওয়ার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। সাধারণভাবে, এ ধরনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। অভিভাবক, কাজী কিংবা যেকোনো ব্যক্তি যদি জেনে-শুনে এই বিয়েতে অংশ নেন বা সহায়তা করেন, তাহলে তারাও একই শাস্তির আওতায় আসবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় বয়স গোপন বা ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করা হয়, যা আইনের চোখে গুরুতর অপরাধ। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে অপ্রাপ্তবয়স্কের বিয়ের একটি সীমিত ব্যতিক্রম থাকলেও তা খুবই বিরল এবং কঠোর শর্তসাপেক্ষ। তবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি, যাতে এ ধরনের অবৈধ বিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।’

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ