Views Bangladesh Logo

আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি থেকে বৃদ্ধ ও শিশুসহ ৪ জনকে কারাগারে দিল পুলিশ

কক্সবাজারের উখিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধ, দুই গৃহবধূ ও ৬ বছরের এক শিশুসহ চারজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। সোমবার (১৩ এপ্রিল) আদালত তাদের জামিন দিলে তারা কারামুক্ত হন।

রাতে বৃদ্ধের ছেলেকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পথে পালিয়ে যাওয়ার ‘খেসারত’ হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার রাতে উখিয়া থানা পুলিশ রাজাপালংয়ের শেখপাড়ায় এই অভিযান চালায়। গ্রেফতারকৃতরা সবাই রাজাপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাহউদ্দিন মেম্বারের পরিবারের সদস্য। তারা হলেন সালাহউদ্দিনের বাবা জাফর আলম, স্ত্রী রোজিনা আক্তার, ভাই মিজানের স্ত্রী ফারজানা হাকিম নিথর ও ৬ বছর বয়সি ভাতিজি মাইরা।

সূত্র জানায়, শনিবার রাতে সালাহউদ্দিন মেম্বারের বাড়ি ঘেরাও করে পুলিশ তার ছোট ভাই মিজানকে আটক করে। থানায় নেওয়ার পথে হাতকড়া পরা অবস্থায় মিজান পালিয়ে যান। এরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। রাতে আটক চারজনকে রোববার বিকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান দাবি করেন, আসামি মিজানকে পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ওপর হামলা করে ছিনিয়ে নিয়ে পালাতে সহায়তা করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলাসহ (পুলিশ অ্যাসল্ট) বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ১৫ জনকে এজাহারভুক্ত করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শিশুটিকে মায়ের সঙ্গে কারাগারে পাঠানোর বিষয়ে ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, ৬ বছরের শিশুটিকে পুলিশ আটক করেনি। তবে তার মা পুলিশের ওপর হামলার মামলায় প্রধান আসামি। শিশুটিকে রাখার মতো কেউ না থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে মা নিজেই তাকে সঙ্গে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া-টেকনাফ সার্কেল) রকিবুল হাসান বলেন, ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামিকে ধরতে গেলে তিনি হাতকড়াসহ পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার মামলা করা হয়েছে। মামলায় দুই নারী ও একজন বৃদ্ধকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিবারের অনুরোধে শিশুটিকে মায়ের সঙ্গে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার নোবেল দেব জানান, রাত ৮টার দিকে অন্য আসামিদের সঙ্গে বৃদ্ধ জাফর আলম, রোজিনা ও ফারজানা কারাগারে আসেন। ফারজানার সঙ্গে তার মেয়েকেও রাখা হয়।

একজন বৃদ্ধ, দুই নারী ও একটি শিশুকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে গ্রেফতারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশুটিকে মায়ের সঙ্গে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টিকে অমানবিক দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।

সোমবার বিকালে কক্সবাজারের আদালত জামিন দিলে তারা কারামুক্ত হন। কারা ফটকে শিশু মাইরা জানায়, কারাগারের রাত ভালো যায়নি তার। তার মা ফারজানা বলেন, আমার মেয়েটা সারারাত ঘুমায়নি, আমাদের কোনো অপরাধ ছিল না, আল্লাহ বিচার করবেন। জামিনে মুক্তির পর কারা ফটকে শিশুটিকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। সে বলে, দাদাসহ সবাই কারামুক্ত হওয়ায় তার খুব আনন্দ লাগছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ