হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি, সময়মতো আইসিইউ না পাওয়ায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ
হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো আইসিইউতে শয্যা না পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুটির জন্য আইসিইউতে শয্যা খালি হওয়ার পর তাকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর তার মৃত্যু হয়।
শনিবার দুপুরে মারা যাওয়া শিশুটির নাম আয়ান। সে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার মোরশেদ আলম ও খোরশেদা বেগম দম্পতির ছেলে।
শিশুটির বাবা মোরশেদ আলম জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে আয়ানকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউ সুবিধা না পাওয়ায় পরে তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নিয়ে আসেন তারা।
মোরশেদ আলমের দাবি, হাসপাতালে যাওয়ার পর তাদের অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়। শিশুটির আইসিইউ প্রয়োজন হলেও তখন কোনো শয্যা পাওয়া যায়নি। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর আয়ানের মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, রোগী মারা যাওয়ার পরই কীভাবে আইসিইউতে শয্যা খালি হলো?
সন্তানের মৃত্যুর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন আয়ানের মা খোরশেদা বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, চিকিৎসকরা সময়মতো তার সন্তানকে দেখেননি এবং যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় বিচারও দাবি করেন তিনি।
তবে পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আয়ান এর আগে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি ছিল। সেখান থেকে লিখিত অনুমোদন ছাড়াই তাকে সরাসরি শামসুদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে আসার সময় শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
তিনি বলেন, শিশুটি যখন হাসপাতালে আসে, তখন আমাদের আইসিইউতে কোনো শয্যা খালি ছিল না। তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে পর্যবেক্ষণে রেখে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।
পরে আইসিইউতে থাকা একজন রোগীকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হলে আয়ানের জন্য শয্যা খালি হয়। এরপর তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তবে সেখানে নেওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর শিশুটির মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।
মিজানুর রহমান আরও বলেন, আইসিইউতে শয্যা খালি না থাকলে সাধারণত সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মধ্যে আগে থেকেই যোগাযোগ করা হয়। ওসমানী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকরা যোগাযোগ করার আগেই আয়ানকে নিয়ে তার স্বজনেরা শামসুদ্দিন হাসপাতালে চলে আসেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, আইসিইউতে শয্যা না থাকায় শিশুটিকে চিকিৎসা না দিয়ে ফেলে রাখা হয়নি। শয্যা খালি হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে জরুরি বিভাগে রেখে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং পরে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মতামত দিন